কেন্দ্র নির্ভর রাজ্য বাজেট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রাপ্য টাকা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেয়নি। সোমবার, রাজ্য বাজেট (WB Budget 2026) নিয়ে মন্তব্য বেলেঘাটার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। এদিন বিধানসভায় (Assembly) বাজেট পেশের পরে সাংবাদিক বৈঠক করেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র (Madan Mitra), আলিফা আহমেদ, রুকবানুর রহমান। সেখানেই কুণাল বলেন, “এই বইটিতে এতবার কেন্দ্র সরকারের উল্লেখ রয়েছে তাতে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমরা রাজ্যের বাজেট শুনছি নাকি কেন্দ্র নির্ভর কোনও বাজেট শুনছি!”

সহযোগিতা চলবে, বিরোধিতাও চলবে
গত তৃণমূল সরকারের কল্যাণমুখী ‘নগদ-নির্ভর’ বাজেটের তীব্র সমালোচনা করলেও, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের (Swapan Dasgupta) পেশ করা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ বাজেটেরই প্রতিচ্ছবি দেখা গেল। এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “যেহেতু নতুন সরকার তাই কিছু সময় দিতে চাই। অর্থাৎ এই বাজেটে কিছু বিষয় আছে যেগুলো সময় সাপেক্ষ। আমরা এখনই সবটা বলার পক্ষে না। অর্থমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সবে ক্ষমতায় এসে বাজেট পেশ করেছেন, যদি ইতিবাচক বিষয়গুলি বাস্তবায়িত করতে পারে তাহলে গঠনমূলক সহযোগিতা চলবে। বিরোধিতাও চলবে। কিন্তু যদি দেখা যায়, বলা আর কাজের মধ্যে সঙ্গতি নেই তাহলে প্রতিবাদ হবে।“

কেন্দ্রীয় বাজেট নির্ভর রাজ্য বাজেট
এর পরেই রাজ্য বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাড়াবাড়ির অভিযোগ তোলেন কুণাল। তাংর কথায়, “অর্থমন্ত্রী বলেছেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা নিতে চান, কিন্তু এই বইতে এতবার কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করা আছে যে মাঝে মধ্যেই বিভ্রান্তি হচ্ছিল রাজ্য বাজেট শুনছি না কেন্দ্রীয় বাজেটের রাজ্য সংস্করণ শুনছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় ছিল আত্মনির্ভর বাজেট কিন্তু এটা মনে হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেট নির্ভর রাজ্য বাজেট।

রাজ্য সরকারের আয়ের উৎস কী
এদিন ফের তৃণমূল আমলে বাংলার বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রাপ্য টাকা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেয়নি। আবাস থেকে শুরু করে ১০০ দিন, ২ লক্ষ কোটি টাকা বাকি ছিল। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের টাকাও দেওয়া হয়নি। এই বইতে খরচের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সরকারের আয় কী সেই বিষয়ে বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই। অর্থাৎ সরকার এই যে ব্যয় করছে সেটা কোথা থেকে আসছে। তারমানে পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর বাজেট হয়ে গিয়েছে।“

তৃণমূল আমলের ভিক্ষা-ভাতাই বিজেপির বাজেটে
এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্ক প্রসূত প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ তুলে কুণাল বলেন, “আগে বিজেপি যেই প্রকল্পগুলির নিন্দা করত, বলত ভিক্ষা-ভাতা সেগুলি তাদের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঠিক করেছিলেন যে রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের আর্থিক সুরক্ষা দেবে, দায়িত্ব পালন করবে, পাশে থাকবে, নতুন সরকারও কিন্তু সেই পথেই চলল। তারা টাকা বাড়াতে পারছেন কারণ তাদের কাছে অর্থভাণ্ডার আছে।“

নজরে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে আয়ুষ্মান ভারত
অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে আয়ুষ্মান ভারত-রাজ্যের প্রকল্প কারা পাবেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল (Kunal Ghosh)। বলেন, “যেখানে অন্নপূর্ণা যোজনায় বলা হয়েছে ‘যোগ্য’ মহিলাদের ভাতা দেওয়া হবে। এই ‘যোগ্য’ শব্দটির মানে কি? যোগ্য মহিলার কী মানদণ্ড সেটা দেওয়া নেই। আরেকটি বিষয় হল স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যেটা দেওয়া আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যসাথী করেছিলেন, বর্তমান সরকার বলছেন আয়ুষ্মান ভারত। অর্থমন্ত্রী বলছেন যারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না তাদের ‘সিএম রিলিফ ফান্ড’ থেকে অর্থ সাহায্য করা হবে। এর অর্থ কী? কেন গরিব মানুষ আসবেন না? যাতে সবাই পান তাই তো স্বাস্থ্যসাথী করা হয়েছিল। তার মানে স্পষ্ট করে দেওয়া হল যে সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী সাহায্য করতেই পারেন। কিন্তু ৫ লক্ষ পর্যন্ত সাহায্য হবে তো?“

বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়
এরপরেই তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট করে কুণাল জানান, “আমরা সময় দেব। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না, আমরা গঠনমূলক বিরোধিতায় বিশ্বাসী। মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে বাজেট বাস্তবায়িত করার সুযোগ দেব। এই বাজেটে সরকারের আয়ের বিস্তারিত নেই। ব্যয়ের কথা বলা আছে। তাই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট । সরকারের নিজস্ব আয় কীভাবে আসছে সেটা আলোচনার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সূচিগুলি করে গিয়েছিলেন এই সরকার বাজেটে সেগুলিই মান্যতা দিয়েছে যদিও কন্যাশ্রী থেকে সমব্যাথী পর্যন্ত সেগুলি সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে ভাল হত। আমরা নিশ্চই ভবিষ্যতে আরো খতিয়ে দেখব। পুরোদস্তুর বিশ্লেষণ হবে।“

–
