নিজেকে বদলে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগা-পাস্তলা নিজেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সকলের মুখ্যমন্ত্রী, মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরছেন।

কীভাবে? প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে ডাকছেন সব দলের প্রতিধিদের। শুনছেন তাদের কথা। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। স্পষ্ট কথা, ভোটের সময় রাজনীতি, বাকি সময় উন্নয়ন।

প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে বুঝছেন, নানা ধরণের মানুষকে নিয়ে সংসার। যাকে দিয়ে যে কাজ হবে, সেই কাজের দায়িত্ব দিচ্ছেন। ভরসা করছেন। দুমদাম সরিয়ে দেওয়া নয়। লক্ষ্য স্থির করে টার্গেট (Target) দিচ্ছেন, সময় বেঁধে দিচ্ছেন। তারপর নির্দেশ, নাউ ইউ পারফর্ম।

দলের মধ্যে রয়েছে নানা টানা পোড়েন। দল ক্ষমতায় এসেছে, তাই এখন মধুচন্দ্রিমার সময় চলছে। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) জানেন, বোঝেন। একদিকে দিলীপ গোষ্ঠী, অন্যদিকে সুকান্ত, শমীকরা। সংঘ, বিজেপি, নব্য বিজেপির মধ্যে টানাপোড়েন। টিমের মধ্যেই রয়েছে চোরা স্রোত। দল আর সরকারকে আলাদা করছেন। বিভিন্ন গোষ্ঠীকে স্পষ্ট বুঝিয়ে বলছেন, মানুষ অনেক আশা নিয়ে ক্ষমতায় এনেছে বিজেপিকে (BJP)। পারফর্ম করতে হবে। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি বাসা বাঁধে। এক্ষেত্রে একদিকে ‘শমীকদা’কে বলেছেন কড়া হাতে নেতা-কর্মীদের মোকাবিলা করতে। পদস্খলন যেন না হয়। অভিযোগ পেলেই কড়া শাস্তি। নইলে ভুল বার্তা যাবে মানুষের কাছে। মন্ত্রীদের বলেছেন, এই সরকারকে বাঁচানো ও গ্রহণযোগ্য করার দায়িত্ব আপনাদের। একদিকে পুরনো মিথ ভাঙতে হবে, অন্যদিকে মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। শুধু ঘোষণা করেই আমলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া নয়। নজরদারি চালাতে হবে দফতরের মন্ত্রীদের। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট এসেছে। নির্দেশ ভুলভ্রান্তি খতিয়ে দেখে পরের বার নিখুঁত করতে হবে।

একা নয়, সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যৌথভাবে। সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, ইগো স্যাটিস্ফাই করছেন, চোরা স্রোত সামাল দিচ্ছেন আবার জনমানসে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি করতে জনমোহিনী কিছু পদক্ষেপও করছেন।

রাজ্য জুড়ে তৃণমূল (TMC) নেতা-কর্মীদের উপর আক্রমণও খুব একটা পছন্দ করছেন না শুভেন্দু। এটা রোগের মতো ছড়াচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনা ঘটছে এলাকার পুরনো ঘটনার জের হিসাবে। তার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের চাইতে সুযোগের ফয়দা তুলছে কেউ কেউ। পুলিশ এ ব্যাপারে ধরি মাছ না ছুঁই পানির অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, এভাবে চলতে পারে না। বন্ধ হোক অসভ্যতা। আইনি পদক্ষেপে যা হওয়ার তা হবে।

শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে পালটে ফেলেছেন। বিরোধী নেতা ক্রমশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পরিণত হচ্ছেন। কতটা সফল হবেন, তা দেখার জন্য সামনে ৪৫ মাস তো রয়েইছে।

