বিধানসভায় নিজের জবাবি ভাষণের মধ্যেই বিরোধীদলের বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) বলতে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ‘বেইমান’ বিধায়কদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে লিখিত অভিযোগ জমা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাজেট অধিবেশনের (Budget Session) রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে জবাবি ভাষণে মঙ্গলবার সকাল থেকে সরগরম ছিল বিধানসভা। দিনের শেষে জবাবি ভাষণ দিতে উঠে প্রথম থেকেই বিরোধীদল বিশেষ করে গত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। স্পিকার সমর্থিত বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আপনার বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো। পশ্চিমবাংলার বিরোধী দলনেতার মতো বক্তব্য ছিল না। আপনার মস্তিষ্কে কার্ল-মার্কস আর হৃদয়ে লেলিন অথবা মাও সে দং আছে। যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল তাঁদের থেকে উপদেশ নেব না। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ-অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি আক্রান্ত বললেন না কেন? অসংখ্য তালিকা আছে।”

এর পরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাকে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “আপনার দল আপনাকে সাপোর্ট করছে বিরোধী দলনেতা? আপনি আর সন্দীপন সাহা অভিযোগ করলেন, আপনাকে দল থেকে বহিষ্কার করল। আর পুষ্পা যে নেপালে পালিয়ে গেল, তাকে পুলিশ ধরে আনল। কই তাকে তো বহিষ্কার করল না!“

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মধ্যেই হঠাৎই ওয়ালে নেমে বিরোধিতা করতে শুরু করেন ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল বিধায়করা। তার পরেই ঋতব্রতর অনুগামীরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। এর পরেই শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, এই দেখুন, “কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল। নিজেদের আসল বলে দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল।“

এর পরেই কুণাল (Kunal Ghosh) বলতে চাইলে রীতি মেনেই স্পিকার বাধা দেন, কারণ তখন মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিচ্ছিলেন। কিন্তু তৃণমূল বিধায়ককে বলতে দিতে বলেন শুভেন্দু অধিকারী। কুণাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যা যা ব্যবস্থা নিয়েছেন তার পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু যাঁরা-যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না। আর আপনারা যেটা নারী নির্যাতন বলছেন…ঋতব্রত একজন রেপে অভিযুক্ত।” এর পরে কুণাল বসে পড়েন।

তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছেন। আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে চুরি-দুর্নীতি-ত্রিপল লুকিয়ে রাখা অবৈধ সম্পত্তি করার তথ্য থাকলে আমাদের দেবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।”

পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁকে বলতে দেওয়ার সৌজন্যের জন্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কুণাল।

–
