সরকার বদল হতেই মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় মৃৎশিল্পীরা। রুটি-রুজিতে টান পড়েছে শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত জেলার প্রায় এক কোটি মানুষের। মাটির দাম কমানো ও মাটি আনার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি প্রদানের দাবিতে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের দফতবে বিক্ষোভ দেখালেন প্রায় হাজার খানেক মৃৎশিল্পী। পরে তাদের একটি প্রতিনিধি দল দফতরে গিয়ে ডেপুটেশনও দেন।

মৃৎশিল্পীদের দাবি সরকার বদলের পরেই জায়গা বিশেষে গাড়ি প্রতি মাটির দাম বেড়েছে ৩-৮ হাজার টাকা। ফলে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। শুধু তাই নয়, সরকার বদলের পর মাটির গাড়ি আনার ক্ষেত্রে পুলিশের কড়াকড়ি বাড়ায় গাড়ি মালিকেরা গাড়ি চালাতে চাইছে না। ফলে মাটির জোগান কমায় কাজ বন্ধ হতে চলেছে। অর্ডারের মাল সাপ্লাই দিতে না পারায় আটকে গেছে টাকা। ফলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা নিদারুণ সমস্যায় পড়েছেন।

মৃৎশিল্পী তারক মজুমদার (Clay artist Tarak Majumdar) জানান, সব জায়গার মাটি দিয়ে মাটির কাজ হয় না। মূলত নদীর পলি মাটি দিয়েই কাজ হয়। আমরা দত্তপুকুর পালপাড়ার শিল্পীরা যে ধরনের কাজ করি তাতে ক্যানিং, ডায়মন্ডহারবারের ইত্যাদি জায়গার মাটি ব্যবহার করি। সেই মাটির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। এক গাড়িতে ১০-১১ টন মাটি আসে, তার দাম গাড়ি প্রতি ৩-৮ হাজার টাকা বেড়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে এই কাজের সবকটি ক্ষেত্রে। আমরা সরকারকে মাটির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বর্তমানে পুলিশ আইন কঠোর করে দেওয়াতে মাটির গাড়ি আসছে না। কারণ এই মাটির গাড়ি আনার ক্ষেত্রে কোন বৈধ অনুমতি নেই। এই মাটি দিয়ে যেমন শিল্পকর্ম হয়, তেমনই মৃৎশিল্পীদের নামে মাটি এনে অবৈধ কাজেও ব্যবহার করা হয়। আমরা জেলাশাসক ও সরকারের কাছে অনুরোধ যাদের মাটির কাজ করার সরকারি অনুমতি আছে তাদের তালিকা তৈরি করে শুধু তাদের প্রয়োজনে মাটির গাড়ি আনার সরকারি অনুমতির ব্যবস্থা করুক সরকার।

এদিন মৃৎশিল্পীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে জেলাশাসকের অফিস চত্বর। মৃৎশিল্পীরা দাবি তোলেন, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান না করলে তাঁরা জীবন ও জীবিকার জন্য বৃহত্তর আন্দোলন নামবেন। এদিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৃৎশিল্পীরা বিক্ষোভে শামিল হন।

–

–

–

–
–
–
