“আমাদের চলতি লেখাপড়া সে শিখল না কোনোকালেই,
অথচ সে ছাড়িয়ে গেল সারা দেশের সবটুকু পাণ্ডিত্যকে।
কেমন ক’রে?”
‘এক যে ছিল ছেলে’ কবিতাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে লিখেছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। কিছুটা এরকমই প্রশ্ন আছে হোয়াটসঅ্যাপের বর্তমান গ্লোবাল সিইও (Global CEO) কুণাল শাহকে (Kunal Shah) নিয়ে। আইআইটি-আইআইএম ডিগ্রি বা ন্যূনতম কারিগরি শিক্ষার ডিগ্রিটুকুও নেই তাঁর। জীবন শুরু করেন ডেলিভারি বয় (Delivery Boy) হিসেবে, তাও আবার স্কুলে পড়ার সময়ে। আর সেখান থেকে আজ হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাথায়।

মুম্বইয়ের ছেলে কুণালের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ১৬ বছর বয়স থেকেই রোজগারের পথ ধরেছিলেন তিনি। ডেলিভারি বয় থেকে শুরু করে মেহেন্দির কোন বিক্রেতা, কখনও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, আবার কখনও সাইবার ক্যাফে পরিচালনা- সব কাজই করেছেন কুণাল। বেশিরভাগ বিখ্যাত ভারতীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মতো আইআইটি-আইআইএম ডিগ্রি বা ন্যূনতম কারিগরি শিক্ষার ডিগ্রিটুকুও নেই তাঁর। ২০২৪ সালে কুণাল দর্শন (Philosophy) বিভাগে কলেজে ভর্তি হন। কারণ, ক্লাস হত সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। বাকি সময়টা তিনি অন্য কাজ করে উপার্জনের সুযোগ পেতেন।

প্রথমে ‘FreeCharge’ তৈরি করে ২০১০ সালে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্টের জগতে পা রাখেন কুণাল শাহ। পরে সেই সংস্থাটি বিক্রি করে দেন। ২০১৮ সালে শুরু করেন CRED। সময়মতো ক্রেডিট কার্ড বিল পেমেন্ট করলেই মিলবে ‘রিওয়ার্ড’- এই অভিনব আইডিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ে এই অ্যাপের। বর্তমানে ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারীর মোবাইলে রয়েছে CRED।

সম্প্রতি Meta-এর বড় ইনভেস্টমেন্টের পরে CRED-এর বাজারমূল্য পৌঁছেছে কয়েক বিলিয়ন ডলারে। আর তারপরেই কুণালকে WhatsApp-এর দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেন মার্ক জুকারবার্গ। হোয়াটসঅ্যাপের গ্লোবাল সিইও পদে যোগ দিতে ক্রেডের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কুণাল। তবে, তাঁর সংস্থায় ব্যক্তিগত শেয়ারের মালিকানা নিজের হাতেই রাখবেন তিনি।

–

–

–

–
