Saturday, January 17, 2026

আলিপুর কোর্টের রায়ে রাজীবের বিপদ বৃদ্ধি পেলেও স্বস্তিতে নবান্ন

Date:

Share post:

আলিপুর কোর্টের রায়ে ফেরার পুলিশকর্তা রাজীব কুমারের বিপদ শতগুনে বৃদ্ধি পেলেও স্বস্তিতে নবান্ন।

এদিনের সওয়ালে রাজীবের আইনজীবী আদালতে ফৌজদারি দণ্ডবিধির 45/2 ধারার উল্লেখ করে আইনি রক্ষাকবচের বিষয়ে জোর দেন। ওই ধারায় বলা আছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর কোনও সদস্যকে গ্রেফতার করতে হলে সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। শীর্ষপদে কর্মরত IPS রাজীব কুমারের ক্ষেত্রেও সরকারের সম্মতি প্রয়োজন। রাজীবের আইনজীবী এদিন মূলত এই বিষয়টিতেই জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্য সরকারের সম্মতি ছাড়া অথবা রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে কী ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানাতে বা গ্রেফতার করতে CBI পারেনা।

বিচারক তাঁর রায়ে রাজীব কুমারের তরফে পেশ করা এই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে জানিয়েছেন, প্রয়োজন বোধ করলে CBI গ্রেফতার করতেই পারে রাজীব কুমারকে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমতি বা সম্মতি নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। রায়ের এই অংশ স্বস্তি দিয়েছে নবান্নকে। এ বিষয়ে রাজীবের সওয়ালকে মান্যতা দিলে রাজ্যকে নিশ্চিতভাবেই অস্বস্তিতে পড়তে হতো। সেক্ষেত্রে রাজ্য যদি রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার অনুমতি দিতো, তাহলে রাজ্যের IPS-লবি বিরূপ হতে পারতো। আবার সম্মতি না দিলে জনমানসে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরনও করা হতো। সেই বিব্রতকর অবস্থায় রাজ্যকে ফেলেনি আলিপুর কোর্ট। এখন এই রায়ের ভিত্তিতে CBI রাজীবকে গ্রেফতার করলে, তাতে সরাসরিভাবে নবান্নের কোনও ভূমিকাই থাকছেনা।

রাজীব কুমারকে হেফাজতে নেওয়ার প্রশ্নে CBI-এর হাত অনেকটাই শক্ত করে দিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, এই পুলিশকর্তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে CBI-এর আধিকারিকরা যদি ফের নিগৃহীত হন, তাহলে দ্রুত সেই ঘটনা আদালতের নজরে আনতে পারবে এবং আদালতও সেক্ষেত্রে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।
ফলে, এই রায়ের ভিত্তিতে রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার প্রশ্নে কার্যত আর কোনও বাধা রইল না CBI-এর সামনে।

এদিনের রায়ের মূল অংশ :
■ রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে CBI-এর গ্রেফতারি পরোয়ানার আর্জি খারিজ করেছে আলিপুর আদালত।

■ রাজীবের তরফে যে আইনি রক্ষাকবচের আবেদন করা হয়েছিলো, তা-ও খারিজ করেছেন বিচারক।

■ রাজীবের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন জানানোর সওয়ালে CBI দাউদ ইব্রাহিমের তুলনা টেনেছিলো। কোর্ট সেই সওয়াল খারিজ করে বলেছে, দাউদের সঙ্গে রাজীবকে একাসনে বসানো যায়না। করন দাউদের বিরুদ্ধে TADA ধারায় অভিযোগ আছে, যা রাজীবের বিরুদ্ধে নেই।
■ রায়ে বলা হয়েছে,
CBI-এর দাবি, রাজীব কুমারের অপরাধ ‘কগনিজিবল’। সে ক্ষেত্রে কেন CBI পরোয়ানা জারি করার অপেক্ষা করছে? তারা পরোয়ানা ছাড়াই রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করতে পারে।

spot_img

Related articles

দিলীপের জায়গা বঙ্গ বিজেপিতে আবারও অনিশ্চিত! ব্রাত্য মোদির সভা থেকে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে ভোটের আগে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি...

টাটার সঙ্গে মোদির দেওয়া-নেওয়া কূট-নীতি! সিঙ্গুরের সভার আগে ফাঁস সাকেতের

মোদি আসছেন সিঙ্গুরে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতি করতে। গালভরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর বাংলার নামে কুৎসা করতে। প্রধানমন্ত্রী মোদির...

বন্দেভারত স্লিপারে হামলার আশঙ্কায় কালিয়াচকের আইসিকে চিঠি আরপিএফের

শনিবার দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপারের (Vande Bharat sleeper train) উদ্বোধন হতে চলেছে। হাওড়া থেকে ট্রেনটি যাবে কামাখ্যায়। প্রিমিয়াম...

নন্দীগ্রামে প্রার্থী অভিষেক! জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)! আচমকা জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে। তার...