Monday, May 18, 2026

বাজেটের অ-আ-ক-খ

Date:

Share post:

আগামীকাল,শনিবার,1 ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তাঁর দ্বিতীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন। বাজেট নিয়ে সাধারন মানুষের আগ্রহ চিরকালীন৷

⛔’বাজেট’ হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য আয়- ব্যয়ের হিসাব। সরকারকে দেশ চালাতে হয়, সরকারের হয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের বেতন দিতে হয়, আবার নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোথায় কত অর্থ ব্যয় হবে, সেই পরিকল্পনার নামই বাজেট।

⛔ একজন মানুষকেও আয় ও ব্যয়ের হিসাব করতে হয়। তবে ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের বাজেটের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। ব্যক্তি আগে আয় কত হবে সেটি ঠিক করেন, তারপর ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র করে ঠিক উল্টোটা। রাষ্ট্র আগে ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করে। এরপর ঠিক করে কোথা থেকে অর্থ আসবে। অর্থাৎ সরকার আয় করে খরচ বুঝে, আর ব্যক্তি ব্যয় করেন আয় বুঝে।

⛔ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না হলে রাষ্ট্র দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ ধার করতে পারে। ব্যক্তিও পারেন, তবে এর সীমা সামান্যই। কারণ ধার করলে পরিশোধ করতে হয়। রাষ্ট্রকেও পরিশোধ করতে হয়, তবে এ জন্য রাষ্ট্র সাধারণত দেউলিয়া হয় না। ধার বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্র এই সুযোগটি নিজেই তৈরি করে নেয়। যদিও এর ফলে দায় ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

⛔ আয় ও ব্যয় সমান কি না, তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বাজেট দু’রকমের হয়ে থাকে।
◾সুষম বাজেট বা Balanced budget:

সরকারের মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হলে সেটি হচ্ছে সুষম বাজেট। অর্থাৎ সরকারের মোট ব্যয় পরিকল্পনার সমানই হচ্ছে সম্ভাব্য আয়।

◾অসম বাজেট বা Unequal budget:

যেখানে আয় এবং ব্যয় সমান হয় না। অসম বাজেট আবার দু’রকম হতে পারে। যেমন উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট। ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি হলে সেটি উদ্বৃত্ত বাজেট। ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ঠিক উল্টোটা। এখানে ব্যয় বেশি, আয় কম।

⛔ এবার প্রশ্ন হতে পারে, কোন বাজেটটি ভালো?

সাধারণত উন্নত দেশগুলো সুষম বাজেট-ই করে থাকে। তবে প্রতিবছরই সুষম বাজেট তৈরি করা সম্ভব নাও হতে পারে। উন্নত দেশগুলি অর্থনীতির ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরের বাজেট তৈরি করে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হলে সুষম বাজেট, খারাপ হলে ঘাটতি বাজেট। অনেক উন্নত দেশই আইন করে সুষম বাজেট তৈরি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ রাজ্যে এই আইন আছে। সুইজারল্যান্ড, ইতালি, অস্ট্রিয়াসহ বেশ কিছু উন্নত দেশে সুষম বাজেট প্রণয়নের আইন আছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ধারাবাহিক সুষম বাজেট তৈরি করা ভালো নয়। তার থেকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বাজেট কেমন হবে ঠিক করা উচিত। কেননা, সুষম বাজেট সুদের হার কমিয়ে দিতে পারে৷ বাড়ায় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতি এগিয়ে যায়।

⛔ সাধারণত অর্থনীতি ভালো অবস্থায় থাকলে সুষম বাজেট করা হয়, খারাপ হলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তৈরি হয় ঘাটতি বাজেট।

⛔ একটা সময় ছিল যখন ঘাটতি বাজেটকে ক্ষতিকর ও সরকারের দুর্বলতাও ভাবা হতো। পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে। বরং অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশে কিছুটা ঘাটতি থাকা ভালো। এতে অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে, ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে। তাতে অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অবশ্য ঘাটতি বেশি থাকাটা ভালো নয়।

⛔ বাজেট ঘাটতি দুভাবে পূরণ করা হয়। যেমন,
বৈদেশিক উৎস
এটি মূলত বৈদেশিক ঋণ। সরকার বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়। এতে সুদের হার কম এবং পরিশোধ করতে অনেক সময় পাওয়া যায়। তবে শর্ত থাকে বেশি।
দ্বিতীয়টি অভ্যন্তরীণ উৎস৷ সরকার দুভাবে দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়। যেমন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা। ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার।

⛔ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার দুটি বিপদ আছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থ থাকবে কম। ফলে বিনিয়োগ কমে যায়। আর ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিলে বেশি হারে সুদ দিতে হয়। এতে সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। এতে পরের অর্থবছরের বাজেট বেড়ে যায়। সরকার বেশি পরিমাণ ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।

⛔ আয় ও ব্যয়ের ধরনের ভিত্তিতেও বাজেট দু’ধরনের। আর আছে উন্নয়ন বাজেট।
◾রাজস্ব ব্যয়:
রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে সরকার পরিচালনার খরচ। রাজস্ব ব্যয়কে অনুন্নয়ন বাজেটও বলা হয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মূলত তিনটি, দেশরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসন চালানোর খরচ।

◾রাজস্ব আয়:
রাষ্ট্রের কতগুলো আয়ের উৎস আছে। এগুলো একাধিক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন প্রত্যক্ষ কর, পরোক্ষ কর এবং করবহির্ভূত আয়। কর ছাড়া আরও আয় আছে। যেমন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ, সুদ, সাধারণ প্রশাসন থেকে আয়, ডাক-তার ও টেলিফোন থেকে আয়, পরিবহন আয়, জরিমানা ও দণ্ড থেকে আয়, ভাড়া, ইজারা, টোল ও লেভি থেকে আয় ইত্যাদি।

◾উন্নয়ন বাজেট

দেশ পরিচালনায় যত ধরনের ব্যয় আছে তা পূরণ করে আয়ের বাকি অর্থ দিয়ে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে। এ জন্য যে বরাদ্দ রাখা অর্থই উন্নয়ন বাজেট। এই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল তৈরিসহ নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করে সরকার।

Related articles

স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে বৈঠক স্বাস্থ্য ভবনে: যোগ দিলেন চিকিৎসক বিধায়করা

সরকারি হাসপাতাল থেকে উন্নততর পরিষেবা ও যথাযথ পরিকাঠামো বজায় রাখা নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই...

ধনধান্যে বোর্ড কৃতীদের শুভেচ্ছা শমীকের

ধনধান্য অডিটোরিয়ামে (Dhono Dhanyo Auditorium) কৃতীদের শুভেচ্ছা জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। সোমবার ২০২৬ সালের...

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি-নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ দেখতে ২ কমিশন গঠনের রাজ্যের

বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী ও শিশুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দু’টি পৃথক কমিশন...

জেনিফার শেষ শ্রদ্ধা, শোকস্তব্ধ লিয়েন্ডারের পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

রবিবার প্রয়াত হয়েছেন লিয়েন্ডার পেজের (Leander Pase) মা জেনিফার(Jenifar)। সোমবার তাঁর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে এসে টেনিস তারকা সমবেদনা জানালেন...