Monday, January 12, 2026

করোনা-কালেই শেষ পুর-মেয়াদ,নতুন সংকটে কলকাতা

Date:

Share post:

বড়সড় এক সংকট অপেক্ষা করছে কলকাতাবাসীর জন্য!

এই করোনা-কালে কলকাতার ৬০-৭০ শতাংশ কাউন্সিলরকে ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রতিদিন দেখেছেন সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ চালাতে৷ ওয়ার্ডের নাগরিকরা এই কাউন্সিলরদের পাশে পেয়েছেন যে কোনও বিপদে বা দরকারে৷

বাকি ৩০-৪০% কাউন্সিলর নিরাপদে স্রেফ বুড়ি ছুঁয়ে দিন কাটাচ্ছেন৷ ফোন করলে অবলীলায় অজুহাত দিয়ে বলছেন ওয়ার্ডের অন্যপ্রান্তে ভীষন ব্যস্ত আছেন৷ এই সংকটে কলকাতার মানুষ সঠিকভাবেই নিজেদের এলাকার তিনস্তরের জন-প্রতিনিধিদের বুঝে ফেলেছেন৷ আগামী ভোটে এই ধারনার প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়বে ইভিএমে৷

সমস্যা এ সব নয়৷ গোটা দেশের সঙ্গে এই শহরেও লকডাউন চলবে ৩ মে পর্যন্ত৷ ৩ তারিখেই যে কলকাতা যাবতীয় শৃঙ্খলমুক্ত মুক্ত হবেন, এমন উচ্চাশা কেউই করছেন না৷ ৩ মে’র পরেও দীর্ঘদিন নানা ধরনের বিধিতে মোড়া থাকবেন শহরবাসী৷

আর ওদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে৷ সেই দিনই অস্তিত্বহীন হবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড৷ থাকবেন না কোনও মেয়র, মেয়র পারিষদ বা কাউন্সিলর ৷ পুরসভা চলে যাবে প্রশাসকের হাতে৷

তখনও কিন্তু স্বাভাবিক হবে না কলকাতা৷ অথচ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকার কাজের কাউন্সিলররা সেদিন আর সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন না৷ তখনও হয়তো তাদের পাওয়া যাবে, কিন্তু সরকারি কোনও ক্ষমতা তাঁদের থাকবেনা৷ এই সংকটকালে নাগরিকদের হামেশাই লাগছে নানারকম শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট৷ কে দেবেন সে সব ? এলাকার বিধায়কদের ‘বিশেষ বিশেষ’ সময় ছাড়া পাড়ার ঢুকতে দেখা যায়নি এই করোনা-কালে৷ বহু এলাকায় আছেন এমন বিধায়ক যারা এলাকার বাইরে থাকেন৷ নাগরিকরা এততো সব বিধি এড়িয়ে কীভাবে পৌঁছাবেন সেখানে ? আর যাবেনই বা কেন ? অথচ এ পর্যন্ত হাতে গোনা জনাকয়েক বিধায়ককে এই সংকটে পথে দেখা গিয়েছে৷ কী হবে সেদিন ?

প্রশ্ন উঠছে, ৭ মে-র পর কারা সামলাবেন ওয়ার্ডের মানুষের রোজকারের প্রয়োজন? তা ছাড়া ওয়ার্ডের করোনা- প্রতিরোধের কর্মসূচিও কি জবরদস্ত ধাক্কা খাবে না ? প্রসঙ্গত, গত ২০১৫ সালের মে মাসে বর্তমান পুরবোর্ড কাজ শুরু করে। ওই বছরের মে মাসের ৮ তারিখে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের প্রথম সাধারণ বৈঠক হয়। কলকাতা পুর আইন বলছে, নির্বাচিত কাউন্সিলরদের প্রথম সাধারণ বৈঠকের দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত কাউন্সিলর পদের মেয়াদ থাকবে। এই বছর বর্তমান কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আর হাতে গোনা কয়েকদিন পর, আগামী ৭ মে।

কলকাতা পুর ভোটের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিলো৷ কিন্তু ভোটের দিন ঘোষণার আগেই সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে করোনাভাইরাস৷ আইন বলছে, ভোটের করতে হয় কমপক্ষে ভোটের ২৩-৩০ দিন আগে৷ ৭ মে
কলকাতা পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে৷ কিন্তু আইন বলছে, আজই ভোট ঘোষণা হলেও তা হবে ৭ মে-র পরেই৷

এই পরিস্থিতিতে সমস্যা একাধিক :

◾ করোনা-কালে নাগরিকদের পাশে থেকে কাজ করছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলররাই।

◾ আগামী ৭ মে তাঁদের পদ চলে গেলে পুলিশ, প্রশাসন কেউ আর আগের মতো তাঁদের পাত্তাই দেবে না। নির্দেশিকা জারি করলেও অভাব থাকবে গ্রহণযোগ্যতার৷

◾নিজের ওয়ার্ডের নাগরিকদের কাছে এক জন কাউন্সিলর যে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে পারেন, তা-ও বন্ধ হয়ে যাবে।

◾ স্বাভাবিক ভাবেই নাগরিকরা এই বিপদের সময়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।

◾রাজ্য সরকার বা প্রশাসন সম্পর্কে ভুল বার্তা যেতে পারে৷

◾ওয়ার্ডের নাগরিকদের সমস্যা বা অভিযোগ মেটাতে না পারলে এই স্পর্শকাতর সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট হতে পারে৷

◾ কাউন্সিলররা সব ‘প্রাক্তণ’ হয়ে যাবেন৷ পরবর্তী সময়ে টিকিট পাবেন কিনা, তা অনিশ্চিত ৷ ফলে তাঁদের কাজে আর দায়বদ্ধতা নাও থাকতে পারে৷

◾কলকাতা পুরসভার কাজের ধরন কাউন্সিলর-কেন্দ্রিক। পুর- অফিসারদের কেউ পাত্তা দেয়না৷ কাউন্সিলররা এলাকায় প্রভাবশালী৷ তাঁরা যত সহজে সমস্যা মোকাবিলা করতে পারেন,
পুর- অফিসারদের পক্ষে তা অসম্ভব৷

◾কাউন্সিলরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে পুর পরিষেবা দেওয়ার কাজ বিঘ্নিত হবেই।

ফলে, ৭ মে-র পর বোঝা যাবে প্রশাসন কাদের দিয়ে এবং কীভাবে এই করোনা-যুদ্ধ চালাবে শহর কলকাতায় !

spot_img

Related articles

সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন ইডি-র: সোমেই শুনানির আবেদন

রাজ্যের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিলের পরে শীর্ষ আদালতে দ্রুত তৎপরতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ইডি। সেখানে...

আম্বেদকর মূর্তির রেলিংয়ে ধাক্কা লরির! ভোরের কলকাতায় এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা

বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল সোমবার ভোরে রেড রোডে। নিরাপত্তায় মোড়া রেড রোডে সোমবার ভোরে একটি লরি সোজা এসে...

শীতলতম কল্যাণী: চলতি সপ্তাহে কলকাতায় পারদ ছোঁবে ১২ ডিগ্রি

শুধু শীতের আমেজ নয়, গোটা বাংলা এ বছরের শীতে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডাতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সেই অভ্যাসে নতুন...

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে কাজের মধ্যেই শ্রদ্ধা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনিই বলেছিলেন গীতাপাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো। যার অন্তর্নিহিত অর্থ কর্মই অনেক বেশি কাঙ্খিত, ধর্মের আলোচনার থেকে। আর...