Monday, March 16, 2026

এনডিএ ভেঙে বিহার ভোটে একাই লড়বে পাশোয়ানের এলজেপি

Date:

Share post:

বিহার ভোটের মুখে বড় ভাঙন এনডিএ শিবিরে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-র সঙ্গে তুমুল বিরোধের জেরে জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেল রামবিলাস পাশোয়ানের দল। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ছেড়ে এবার একাই লড়বে বলে জানিয়েছে লোক জনশক্তি পার্টি বা এলজেপি। যদিও বিহারে জোট ত্যাগ করলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না এলজেপি। বিজেপি ও এলজেপির সম্পর্কে কোনও চিড় ধরবে না বলে এদিন জানিয়েছেন চিরাগ পাশোয়ান। তাঁদের ঝগড়া বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও তাঁর পার্টি জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউর সঙ্গে।

রবিবার সংসদীয় দলের বৈঠকে বিহারে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলজেপি। দলের তরফে জানানো হয়েছে, জেডিইউ-এর সঙ্গে রাজ্যস্তরে আদর্শগত পার্থক্য থাকায় বিহারের নির্বাচনে একা লড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমে বিহার, প্রথমে বিহারি, এই স্লোগানকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে এলজেপি।

বিহারে ভোটের আগে এনডিএ ছাড়লেও কেন্দ্রে বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার খাতিরে রামবিলাস পাশোয়ানের দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেবে না তারা। অর্থাৎ বিধানসভার যে আসনগুলিতে বিজেপি প্রার্থীরা লড়বেন, সেখানে প্রার্থী দেবে না এলজেপি। অন্যদিকে, জেডিইউ-এর হাতে থাকা সমস্ত আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। রাজ্যে তাদের মূল শত্রু যে এনডিএ শরিক জেডিইউ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এলজেপি নেতারা। তাঁদের দাবি, জেডিইউকে হারানোর পর রাজ্যের ক্ষমতায় আসবে বিজেপি ও এলজেপি জোট। সব মিলিয়ে, ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে ‘হাঁসজারু অবস্থা’ বিহারের শাসক শিবিরে। এনডিএর দুই শরিকের ঝগড়ায় বেইজ্জত বিজেপি।

আরও পড়ুন- রবিবাসরীয় শারজায় মুম্বইয়ের বড় জয়, ব্যর্থ হল ওয়ার্নারের ইনিংস

এলজেপির তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এদিন জানানো হয়েছে, জেডিইউ-এর সঙ্গে মতাদর্শগত পার্থক্য হচ্ছিল অনেকগুলি আসনে। ভোটারদের অধিকার দেওয়া উচিত ছিল প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। এলজেপি চেয়েছিল বিহারকে বেশি গুরুত্ব দিতে। কিন্তু এই বিষয়ে দুটি দল এক মত হতে পারেনি। পাশাপাশি এলজেপির তরফে এও জানানো হয়েছে, জেডিইউ-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও বিজেপির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ একইরকম থাকবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেই তাঁরা আস্থা রাখছেন।

বিহারে তিন দফায় ভোট ২৮ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর। ফল ঘোষণা ১০ নভেম্বর। করোনা মহামারির আবহে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল, সবার কাছেই এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

spot_img

Related articles

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, মঙ্গলেই ঘোষণার পথে তৃণমূল

২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যে কোনও সময়ে রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে, এমনটা প্রস্তুতি নিচ্ছিল...

জ্বালানি গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের হঠকারিতা: সোমে পথে মমতা-অভিষেক

মোদি সরকারের ভ্রান্ত বিদেশ নীতির জেরে গোটা দেশে সংকটে সাধারণ মানুষ। লকডাউন থেকে এসআইআর, এবার গ্যাসের সংকটেও যেখানে...

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই বদল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই রাজ্যে একের পর এক মনের মত আধিকারিক পদে বদল করতে শুরু করে দিল নির্বাচন...

আচরণবিধি লাগু হতেই কমিশনের কড়া নজর, বদলি ও উন্নয়ন তহবিলে নিয়ন্ত্রণ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, আধিকারিকদের বদলি এবং উন্নয়নমূলক...