ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ৪ জনকে অজ্ঞান করে কফিনবন্দি করেছিল আসিফ!

কালিয়াচক খুনকাণ্ডে নয়া মোড়: কী বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
কালিয়াচকের ঘটনায় অভিযুক্ত আসিফ

মালদহের কালিয়াচকের বাবা-মা-বোন ও ঠাকুমাকে খুনের ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই হাড় হিম করার মতো তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এবার ধৃত আসিফ মহম্মদ ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সকলকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তার পরে অচৈতন্য অবস্থায় থাকা ওই চারজনকে আসিফ হাত-পা বেঁধে জলে ডুবিয়ে রেখে মেরেছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

অন্য একটি সূত্র অনুযায়ী, ধৃত আসিফ তার বাবা-মা, বোন ও ঠাকুমাকে অচৈতন্য অবস্থায় হাত-পা মুখ বেঁধে কফিনে পুরে ফেলে। তার পরে বাড়ির এক ঘর থেকে গ্যারেজ অবধি যেতে দুটি ঘরের মধ্যে প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ সুড়ঙ্গ তৈরি করে। ইঁট দিয়ে ঘেরা ওই সুড়ঙ্গ তৈরির কারণ, সেখান দিয়ে দেহগুলি গ্যারাজে নিয়ে পুঁতে ফেলা। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, যাতে দেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রতিবেশীরা কেউ দেখে না ফেলে, সে জন্য সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল সে।

এই গোটা ঘটনা যে একদিনে ঘটেনি তা নিয়ে নিশ্চিত পুলিশ। ওই সময়ে আসিফের দাদা আরিফ কলকাতায় ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। পাশাপাশি এই ঘটনায় অভিযুক্তের এক দাদা রাহুল শেখকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার এই বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যায় জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। পাশাপাশি ওই এলাকায় আসেন রাজ্যের সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্থানীয় বিধায়ক চন্দনা সরকার।

আরও পড়ুন-নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জের, রবিবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে ওই চারজনকে প্রথমে খাওয়ানো হয়। তারপরেই জলে ডুবিয়ে ওই চার জনকে খুন করে অভিযুক্ত আসিফ মহাম্মদ। এরপর তাদের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়। ধৃতের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।