Tuesday, February 3, 2026

হেলিপ্যাড জলের তলায়, মুখ্যমন্ত্রীর সফর বাতিলে হতাশ খানাকুল

Date:

Share post:

সোমনাথ বিশ্বাস, খানাকুল: ঠিক ছিল আকাশ পথে হুগলির খানাকুলে বন্যা বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এবং বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন। হুগলি জেলা প্রশাসন আগে থেকেই খানাকুল-১ অঞ্চলের ঘোষপুর বিবেকানন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করেছিল। সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বরুনদেবের বদান্যতায় যা বাতিল হয়ে যায়। একটানা বর্ষণে তাঁর হেলিপ্যাড সম্পূর্ণভাবে জলের নিচে চলে যায়। অগত্যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খানাকুল-সহ হুগলির বন্যাকবলিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল পরিদর্শন বাতিল করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুখভার আকাশের। ফের নিম্মচাপের ভ্রুকুটি। ডিভিসি-সহ জেলায় বিভিন্ন বাঁধ থেকে জল ছাড়ায় অবস্থা শোচনীয়। হাওড়া, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা খানাকুল, গোঘাট ও আরামবাগ মহকুমা অঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত। এই এলাকাগুলোর জল যন্ত্রণায় গ্রামের পর গ্রাম। বাড়ি, দোকান, অফিস, স্কুল বাড়িও ডুবে গিয়েছে। রাস্তার উপর এসে উঠেছেন গ্রামের মানুষ। গবাদিপশুদের জায়গাও রাস্তা। চাষের জমি জলের নিচে। বিপদসীমা ছাড়িয়ে বইছে এলাকার নদীগুলিও। চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দারা।

হুগলির খানাকুল ও আরামবাগ মহকুমা অঞ্চলের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। জলের তলায় প্রায় ৬৫টি গ্রাম। নতুন করে জল বাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকে শুধুই জল থৈথৈ অবস্থা। বিদ্যুৎহীন এলাকায় বানভাসী মানুষ। মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় বাইরের জগৎ থেকেও বিচ্ছিন্ন। নেই পানীয় জল। কোনও কোনও এলাকায় সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে একতলা বাড়ি। ফলে ছাদ হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। ত্রিপল খাঁটিয়ে চলছে বসবাস।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আসবেন জেনে দুর্গত মানুষ বিশেষ করে বাড়ির মহিলারা ভিড় জমিয়েছিলেন ঘোষপুর হেলিপ্যাড-এর চারপাশে। মুখ্যমন্ত্রী আসার খবরে নতুন করে তারা বাঁচার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর বাতিল হওয়ায় তাঁরা হতাশ মুখে বাড়ি ফেরেন। আবার আরামবাগের মায়াপুরের একটি আস্ত মার্কেট জলের তলায়। সেখানে কমপক্ষে ৪০ জন দোকানদারের বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সবমিলিয়ে জল যন্ত্রণায় খানাকুল-গোঘাট-আরামবাগ-সহ হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ।

হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্গত এলাকায় ৮০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

 

spot_img

Related articles

টাকার অঙ্ক অনেক কম, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...

বঙ্গভবনে এবার রাজ্য পুলিশের পাহারা! বিমানে দিল্লি যাচ্ছে র‍্যাফ-ডিএসপি-র বিশেষ দল 

দিল্লিতে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা এবং সেখানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের (এসআইআর) কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল নবান্ন।...