Thursday, May 21, 2026

ত্রিপুরায় আক্রান্তদের দেখতে হাসপাতালে তৃণমূল নেতৃত্ব, পুলিশ সুপারকে ডেপুটেশন

Date:

Share post:

মুখ্যমন্ত্রী বদলালেও বদলায়নি বিজেপির চরিত্র। ত্রিপুরায় অব্যাহত গেরুয়া সন্ত্রাস। পায়েরতলা থেকে মাটি সরে গেছে বুঝে উপনির্বাচনের আগে সন্ত্রাসকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। সুরমা উপনির্বাচনের আগে প্রায় ৭০টি পরিবার ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেয়। এদের মধ্যে ছিল হতদরিদ্র মালাকার পরিবার। সেই আক্রোশ থেকে বুধবার মধ্যরাতে ওই পরিবারের চার সদস্য- অবিনাশ মালাকার, বল্লভ মালাকার, তাপস মালাকার এবং দীপক মালাকারের উপর হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, লাঠি, রড, দা নিয়ে সদস্যদের উপর চড়াও হয় বিজেপির গুন্ডারা। ৮ বছরের একটি বাচ্চাকেও কোপানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তাল ত্রিপুরার রাজনীতি। বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বইছে।

আজ, বৃহস্পতিবার আক্রান্তদের দেখতে ধলাই জেলা হাসপাতালে যায় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূলের ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদেশ সভাপতি সুবল ভৌমিক, রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ, দেবু টুডু, বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, যুবনেতা শক্তিপ্রতাপ সিং, মুকুল বৈরাগ্য, শান্তনু সাহা, সুদীপ রাহা-সহ আরও অনেকে। তাঁরা আহতদের দেখার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের লোকেদের সঙ্গেও কথা বলেন। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল ধলাই জেলার পুলিশ সুপার রমেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশনে দেন। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার ত্রিপুরায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেও নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি জানানো হবে।

এমন বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৃণমূলের ত্রিপুরার রাজ্য সভাপতি সুবল ভৌমিক জানান, ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতৃত্বকে রোজই আক্রান্ত মানুষের কাছে ছুটে যেতে হচ্ছে। মানুষকে বিজেপি আক্রমণ করছে। তৃণমূলে যোগদান করার অপরাধেই সুরমায় হামলা চালায় বিজেপির গুন্ডারা।

তাঁর কথায়, “বিজেপি দুর্বৃত্তায়নকে মদত দিচ্ছে। নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে সরকারের মদতপুষ্ট হার্মাদবাহিনী হামলা চালাচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। আমাদের দলের তরফ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই গুন্ডারাজ বন্ধ করতেই হবে ত্রিপুরার বুক থেকে।” বারবার নির্বাচন কমিশনকে সন্ত্রাসের কথা জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সুবলবাবু।

রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার
এই আপনার ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলা? আমাদের কর্মীদের ওপর এভাবে হামলায় স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছেন আপনারা।” এই নারকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানান সুস্মিতা দেব।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূলের ইনচার্জ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এত বর্বরতা! এত নৃশংসতা! বিজেপির জল্লাদ বাহিনীর নৃশংস হামলার সাক্ষী হয়ে রইল গোটা দেশ। গুন্ডারাজের সরকার, সন্ত্রাসবাদের সরকার!বিজেপি জনসমর্থন হারাচ্ছে বলে নিষ্ঠুরতার রাস্তা অবলম্বন করেছে। রাতের অন্ধকারে নিরীহ মানুষদের ওপর হামলার পর স্বৈরাচারী সরকার বর্বরতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ভয় পেতে জানে না। যত বেশি আঘাত করা হবে, তৃণমূল কংগ্রেস তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।”

 

Related articles

হকার উচ্ছেদ ও ‘বুলডোজার নীতি’র প্রতিবাদ! বৃহস্পতিবার পথে নামছে তৃণমূল

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবৈধ নির্মাণ ও রেলের জায়গা থেকে হকার উচ্ছেদের নামে নব্য বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’র...

সেকেলে আইনে গো-হত্যা বন্ধের বিজ্ঞপ্তি, সমস্যায় চাষি থেকে ব্যবসায়ী: হাই কোর্টে CPIML

আইনের ধারা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা উচিত দাবি করে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে আইনে বদল আনে বিজেপির বর্তমান সরকার।...

অস্ত্র আইনে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ক্ষুব্ধ মালা, আত্মসমর্পণের পরে জামিন

অস্ত্র আইনে মামলা রুজু। আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সাংসদ মালা রায় (Mala Ray)। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেন মালা...

নিম্ন আদালতে থমকে বিচার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকরের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে সিবিআই

এসএসসিতে নিয়োগ মামলার তদন্ত এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেও, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি জট তৈরি হয়েছে। গ্রুপ-ডি...