Saturday, March 7, 2026

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর পক্ষপাতমূলক টুইট রাজ্যপালের, নিন্দায় সরব তৃণমূল

Date:

Share post:

সাক্ষাতের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফের রাজ্যপালকে তোপ তৃণমূলের। গতবছর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠকের পর রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড় বিভ্রান্তিকর টুইট করেন। যার সঙ্গে এদিনের ম্যারাথন বৈঠকের সেই অর্থে কোনও সম্পর্ক নেই বলেই অভিযোগ। একটি অংশ বিশেষ তুলে ধরেন রাজ্যপাল এবং তার ফলে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকের কার্যত সুর কেটে যায়।

 

চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি আশ্রিত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল। তারই অঙ্গ হিসেবে আজ, মঙ্গলবার রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ বৈঠকের পর ব্রাত্য বসুর নেতৃত্বে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। আবার সেই বৈঠকে আলাপচারিতার রাজ্যপালও তাঁর কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের কাছে।

এরপর প্রতিদিন দল চলে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাজ্যপাল একাধিক টুইট করেন। তাঁর একটি টুইটে তিনি বলেন, “সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে শাসক দলের মন্ত্রীদের। আইনের শাসন মানতে হবে, শাসকের আইন নয়। আইনের শাসন নিশ্চিত করুক রাজ্য সরকার।” আরও একটি টুইটে রাজ্যপালের সংযোজন, ”সিন্ডিকেট-মাফিয়ারাজকে কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আক্রান্তদের আর্থিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও তোষণ রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।” অপর একটি টুইটে রাজ্যপাল বলেন, “৩ বছর পর তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি দল রাজভবনে এলো।” যদিও কোনও টুইটে রাজ্যপাল এদিনের বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করেননি।”

 

খুব স্বাভাবিক রাজ্যপালের এমন একচোখা আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূল। আর সেই কারণেই রাজ্যপালের টুইট নিয়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূলও। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ পাল্টা টুইটে লেখেন, “রাজ্যপালের ট্যুইট পক্ষপাতমূলক, বিজেপির মতো কথা। বিকৃত এবং রাজনীতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্যুইট কাম্য নয়। তৃণমূলের দাবি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটিও কথা লেখেননি তিনি।”

 

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন,
“রাজ্যপাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে টুইট করেছেন। মূল বিষয়ের বাইরে গিয়ে কথা বলেছেন। তৃণমূল রাজভবনে নিজেদের দাবি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওনার টুইট দেখে মনে হচ্ছে, উনি তৃণমূলের কাছে গিয়েছেন নিজের আর্জি নিয়ে। রাজ্যপালের টুইট একেবারেই পক্ষপাতমূলক, বিকৃত টুইট। বিজেপির ভাষায় কথা বলছেন। রাজ্যপাল শুধু বিজেপির নয়। রাজভবন যেন বিজেপির পৈতৃক সম্পত্তি। রাজ্যপাল ওনাদের অভিভাবক। কার বা কাদের নির্দেশে বা ভালোসাজার জন্য এই টুইট করলেন, সেটা উনি বলতে পারবেন। উনি টুইট ব্যাধিতে আক্রান্ত। ওনার টুইটে শুধু বিজেপির কথার প্রতিফলন ঘটছে। দীর্ঘ বৈঠকের যে আলোচনা সেটা ব্যাঘাত করলেন উনি।”

 

 

spot_img

Related articles

“আসুন মোকাবিলা করি!” মোদির পোস্টের পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর অনুযোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আক্রমণের পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক...

”মানুষের চোখে আতঙ্ক’’, অবশেষে দুবাই ফিরলেন বিবেক ওবেরয়

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মাঝে অবশেষে দুবাইয়ে নিজের ভিলায় ফিরলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। মুম্বই থেকে দুবাই...

‘গুপ্তচর’ নামিয়ে বাঙালির নাম বাদ দেওয়ার ছক! ধর্মতলার মঞ্চ থেকে কমিশনকে তোপ সুদীপের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাজপথে যে জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে, তাতে তৃণমূল ২৫০-র...

মোদিরাজ্যে মন্দিরের শৌচালয় থেকে দুই কলেজ ছাত্রীর দেহ উদ্ধার, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

গুজরাতের সুরাতে এক মন্দিরের শৌচালয় থেকে দুই কলেজ ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে...