Wednesday, March 18, 2026

উত্তরবঙ্গ নিয়ে কুৎসা-অপপ্রচারের মোক্ষম জবাব, উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

উত্তরবঙ্গ ভাগের ষড়যন্ত্র করছে গেরুয়া শিবির। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উত্তরের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, অনুন্নয়নের অপপ্রচার করে বিরোধীরা। এই অভিযোগের মোক্ষম জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকে বলেন উত্তরবঙ্গ (North Bengal) কিছু পায় না। এগুলো শুধুই কুৎসা আর অপপ্রচার”। এরপরেই উত্তরের তিন জেলার উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী প্রকল্প করেছে তাঁর খতিয়ান দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা জানান, “আলিপুরদুয়ারে (Alipurduwar) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৪ হাজার, জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার, কোচবিহার (Coochbehar) জেলা ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার। জনসংখ্যার ভিত্তিতে এটি করা হয়। আলিপুরদুয়ার নতুন জেলা। জলপাইগুড়ি ভেঙে আলিপুরদুয়ার করা হয়েছে, আমরাই করেছি। সারা রাজ্যে ৯১ লক্ষ কৃষকবন্ধু পেয়েছেন। আলিপুরদুয়ারে উপভোক্তার সংখ্যা ৮৩ হাজার, ৮৯ হাজার পেয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলায়, ৩ লক্ষ ৭১ হাজার রয়েছেন কোচবিহার। আলিপুরদুয়ারে সবুজ সাথী সাইকেল পেয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ, ৩ লক্ষ ১৩ হাজার জলপাইগুড়িতে, ৪ লক্ষ ২৫ হাজার পেয়েছেন কোচবিহারে। ৭ দিনের মধ্যে বাকিরাও পেয়ে যাবেন। আলিপুরদুয়ারে স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তা ৪ লক্ষ, জলপাইগুড়িতে রয়েছেন ৫ লক্ষ ৭৭ হাজার, কোচবিহারে রয়েছেন ৭ লক্ষ ৬১ হাজার। খাদ্যসাথী প্রাপকের সংখ্যা আলিপুরদুয়ার জেলায় ১৪ লক্ষ ৩৯ হাজার, ২১ লক্ষ ৬৭ হাজার জলপাইগুড়ি জেলায়, ৩০ লক্ষের বেশি রয়েছেন কোচবিহারে।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব চা শ্রমিকরা আবাস যোজনায় বাড়ি পাচ্ছেন না, তাঁদের চা-বাগানের অতিরিক্ত জমি পাট্টা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এবিষয়ে বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এর পাশাপাশি, চা-শ্রমিকদের শিশুদের জন্য ক্রেশ তৈরি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই পরিষেবা চালু হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে তিনজেলা জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে- খাল ও নদীগুলি থেকে চাষের জমিতে জল দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপির নাম না করে মমতা অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে অনেকে। সামান্য কিছু দিয়ে মানুষের মগজ ধোলাই করতে চাইছে বিরোধী শিবির। কিন্তু উত্তর-দক্ষিণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে যোগ না থাকলে উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডারে টান পড়বে। এই বাস্তবতা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী। বলে, আগের সরকারের আমলে নেতা-মন্ত্রীরা উত্তরবঙ্গে বেড়াতে যেতেন। আর তিনি বছরে ২০-২৩বার সেখানে যান। মমতার কথায়, “আমার মতো করে উত্তরবঙ্গকে কেউ চেনে না। আমি মানসিকভাবে উত্তরবঙ্গে বাসিন্দা।“

spot_img

Related articles

ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি ‘মা-ছেলে’, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে সম্পর্কের অগ্নিপরীক্ষা

একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করা নতুন নয় বঙ্গ রাজনীতিতে। কিন্তু সম্পর্ক যদি হয় মা-ছেলের...

ED তদন্তে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়, আইপ্যাক মামলা স্থগিতের আবেদন খারিজ শীর্ষ আদালতে

কলকাতার আইপ্যাক (I-PAC)অফিসে ইডি হানা ঘিরে সুপ্রিম মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের (Supreme Court)। বুধবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার...

ইডেনে প্রস্তুতি শুরু নাইটদের, বিমান জটে আটকে নারিনরা

আইপিএলের(IPL)  প্রস্তুতিতে মাঠে নেমে পড়ল কেকেআর(KKR)। মঙ্গলবার থেকেই কলকাতায় আসতে শুরু করেছিলেন নাইট ক্রিকেটার সাপোর্ট স্টাফরা, বুধবার বিকেলে...

৭০ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেব: প্রার্থী হয়ে প্রত্যয়ী ঊষারানি  

"৭০ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে সেই ভোট মুখ্যমন্ত্রীকে আমি উপহার তুলে দেব।" চতুর্থবার মিনাখাঁ বিধানসভা থেকে তৃণমূলের (TMC)...