Tuesday, March 17, 2026

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিমকোর্টের, যন্ত্রণামুক্তিতে কী কী বাধ্যতামূলক!

Date:

Share post:

যেখানে জীবনের আশা একেবারেই নেই সেখান মৃত্যুপথযাত্রী ও তার পরিবারের কষ্ট লাঘব করে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া'(Euthanasia) অর্থাৎ স্বেচ্ছামৃত্যু। তবে এই স্বেচ্ছামৃত্যু পাওয়ার প্রক্রিয়া এতদিন ছিল বেশ জটিল। এবং এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ছিল চিকিৎসক(Doctor) এব‌ং সরকারি বিশেষজ্ঞের বিবেচনাধীন। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে এবার সরল করল দেশের শীর্ষ আদালত(Supreme Court)। আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগী, রোগীর পরিবার এবং চিকিৎসকের বিচারবোধকেই গুরুত্ব দেওয়া হল। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, এই বিষয়টি আর সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষ নয়। মূলত হাসপাতালই এইবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

২০১৮ সালের এই সংক্রান্ত একটি রায়ে নিষ্কৃতিমৃত্যুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দু’টি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ বদলায়নি। তবে এর পাশাপাশি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জেলা শাসকের নেতৃত্বাধীন একটি রিভিউ বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নিয়মটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার সিদ্ধান্ত আর সরকারি রিভিউ বোর্ডের বিবেচনাধীন থাকল না। বদলে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে একজন জেলা মেডিক্যাল অফিসার থাকবেন হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডে। জেলাশাসককে শুধু এ বিষয়ে জানিয়ে দিলেই হবে। এছাড়াও আগের নির্দেশে আদালত জানিয়েছিল প্যানেলের চিকিৎসকদের অন্তত ২০ বছরের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেই নির্দেশও বদলেছে নতুন রায়ে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, চিকিৎসকদের ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে। তবে মেডিক্যাল বোর্ডকে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আবেদনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। মঙ্গলবার প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। যেখানে ছিলেন, বিচারপতি কে এম জোসেফ, বিচারপতি অজয় রস্তোগি, বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস, বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং বিচারপতি সিটি রবিকুমার।

প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা স্বরচিত ইচ্ছাপত্র অনুসারে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ সরল করার পাশাপাশি, ইচ্ছাপত্র তৈরি করার বিষয়টিরও সরলীকরণ করেছেন বিচারপতিরা। প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার ইচ্ছাপত্র হল সেই অনুমতি পত্র যেখানে রোগী নিজেই তাঁকে কৃত্রিম জীবনদায়ী প্রক্রিয়ায় না রাখার অনুমতি দিয়ে যান। এর আগে দু’জন সাক্ষীর সইয়ের পাশাপাশি, একজন প্রথমস্তরীয় বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (জেএমএফসি) এর সই প্রয়োজন হত এই ইচ্ছাপত্রের জন্য। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও নোটারি বা গেজেটেড অফিসার সই করলেই চলবে।

spot_img

Related articles

‘বিনা কারণে’ শীর্ষ আধিকারিক বদল: স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের।...

বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সেখানে জানানো...

নির্বাচনী আচরণবিধির জের, থমকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জারি হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। তার জেরেই আপাতত থমকে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে...

জরুরি কারণ ছাড়া ছুটি নয়! ভোটের আগে পুলিশে ছুটিতে কড়াকড়ি 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ...