Monday, January 12, 2026

কেন্দ্রের লাগাতার বঞ্চনা সত্ত্বেও শহরাঞ্চলে আবাস যোজনা প্রকল্পে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বাংলা

Date:

Share post:

লাগাতার বঞ্চনা। আবাস যোজনায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েও কোনও অনিয়ম পাইনি কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও আটকে রেখেছে গরিব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাইয়ের টাকা। তারপরেও শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্প রূপায়ণে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে অর্থাৎ জানুযারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে রাজ্যের শহরাঞ্চলে আবাস যোজনার ৮৪৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে রাজ্যের পুর এলাকায় ৫০০ কোটির বেশি টাকা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা করা হয়েছে।

আবাস যোজনা প্রকল্পে সারাদেশে শহরাঞ্চলে প্রথম স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ (Andra Pradesh) ও মধ্যপ্রদেশ (Madyapradesh)। বাংলার চেয়ে বহুগণ বড় বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের উত্তরপ্রদেশও এই প্রকল্পে বাংলার সমান ৫০০ কোটি খরচ করতে পেরেছে। এই নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, “গোটাটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্য। ওঁনার দেখানো পথে হেঁটে স্বচ্ছতার সঙ্গে সকলের জন্য বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে আমরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছি। কেন্দ্রীয় সরকার স্রেফ সস্তা রাজনীতির জন্য গ্রামীণ এলাকায় এই প্রকল্পের টাকা প্রায় এক বছর বন্ধ করে রেখেছে। একাধিক কেন্দ্রীয় টিম এসেও দুর্নীতির অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায়নি। আমার স্থির বিশ্বাস, গ্রামাঞ্চলেও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে যে পাপ মোদি সরকার করছে, তার উপযুক্ত জবাব জনগণ দেবে। পঞ্চায়েত আর লোকসভা দুটি নির্বাচনের যোগ্য জবাব পাবে বিজেপি আর নরেন্দ্র মোদির সরকার।“

আরও পড়ুন- পটাশপুরে বো.মা বাঁধতে গিয়ে বি.স্ফোরণ! পলাতক জ.খম নির্দল সমর্থক

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য খরচ জোগাতে হয় কেন্দ্র, রাজ্য ও উপভোক্তাকে। ৫ লাখের বেশি জনসংখ্যার পুর এলাকায় এই বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার দেয় দেড় লক্ষ টাকা। বাড়ি প্রতি ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা দিতে হয় রাজ্য সরকারকে। গত মে’মাস পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকাগুলিতে মোট ৭৮ হাজার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে ২১ হাজার বাড়ির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গকেই সেরার তালিকায় জায়গা দিতে বাধ্য হয় মোদি সরকার। তা সত্ত্বেও বঙ্গ বিজেপির নেতারাই দিল্লিতে গিয়ে বাংলার প্রাপ্য আটকে দেওয়ার জন্য দরবার করেন। তাঁদের উস্কানিতে বারবার কেন্দ্রীয় দল তদন্ত করতে এসে রাজ্যকে ক্লিনচিট দেয়। তার পরেও দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য বাংলায়, যে বকেয়া পায় না। পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই আচারণ বলে অভিযোগ বাংলার শাসকদলের। একপরেও কী বাংলাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য দেবে না কেন্দ্র- এখন এটাই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।

 

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...