Tuesday, March 17, 2026

মহুয়া বহিষ্কার হলে প্রতাপকে ছাড় কেন? পদত্যাগ করুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিবৃতি দিন প্রধানমন্ত্রী, দাবি তৃণমূলের

Date:

Share post:

মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হলে প্রতাপ সিমহাকে ছাড় কেন? কেন তাঁকে এখনও বহিষ্কার না করে, জামাই আদর করা হচ্ছে। উল্টে যাঁরা সংসদ কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সংসদ তো বিরোধীদের বলার জায়গা, এখানেও কেন কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তাহলে কি সংসদকে মজার মুল্লুক বানিয়ে শুধু বিজেপি থাকবে?
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও মহীশূরের বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে ফের কড়া পদক্ষেপের দাবি তৃণমূল। দিল্লি থেকে কলকাতা, তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের দাবি, যে জঙ্গি কায়দায় সংসদে হামলা চলেছে, আগে থেকে আঁচ করতে ব্যর্থ গোয়েন্দারা, তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। নতুন ভবনের নিরাপত্তাহীনতার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এতবড় কাণ্ডের পর মুখ না লুকিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? মহুয়া পাসওয়ার্ড দিলো বলে সাসপেন্ড করা হলো, যদিও দোষ প্রমাণিত হয়নি এখনও। কিন্তু বিজেপির সাংসদ হামলাকারীদের পাস ইস্যু করলো, তাও বহিষ্কার করা হলো না কেন? এটা দ্বিচারিতা। যাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ করে প্রশ্ন তুললেন, সেই ১৫ জন সাংসদকে কে সাসপেন্ড করা হলো। ঘটনার দিন ৩০১ জনের বদলে কেন ১৭৬ জন নিরাপত্তা কর্মী ছিল। নিরাপত্তা নিয়ে দলবাজি হচ্ছে। এ রাজ্যের চার আনা বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরছেন। নিরাপত্তা কেন ভাঙবে? গ্যালারি অব্দি পৌঁছানো মুখের কথা নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখনই দেওয়া উচিত। যিনি পাস দিয়ে দুষ্কৃতী ঢোকালেন তাঁকে জামাই আদর করা হচ্ছে।

রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিবাদ না করলে কি নিয়ে প্রতিবাদ করবে? যখন প্রতিবাদ করা হচ্ছে তখন সাসপেন্ড করে দেওয়া হচ্ছে। কাপুরুষ বিজেপি বিতর্কে অংশই নিল না। পার্লামেন্টে যা ঘটল, তাতে দেশও সুরক্ষিত নয়। কেন এত সিকিউরিটির অভাব। এত খরচ করে নতুন সংসদ ভবন তৈরি হল, তাও নিরাপত্তার ঠিক নেই।

অন্যদিকে, দিল্লীতেও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন তৃণমূল সাংসদরা। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রশ্ন তোলেন, অধিবেশন চলাকালীন লোকসভায় ঢুকে কীভাবে স্মোক ক্র্যাকার ছোঁড়া হল? আরও বড় কোনও ঘটনা ঘটে যেতেই পারত। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন এটা কী জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে আশঙ্কাজনক নয়? এখন এথিক্স কমিটি কোথায় গেল? রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের প্রশ্ন, চব্বিশের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন এই ভবন উদ্বোধন করতে এবং অধিবেশন শুরু করতে উঠেপড়ে লাগলেন? যেখানে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে সেখানে কীভাবে চলবে অধিবেশন? দেশের মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

spot_img

Related articles

আজ বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, চমক ঘিরে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেছে। সোমবার একপ্রস্থ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বাম...

রাতের কলকাতায় শিলাবৃষ্টি, মঙ্গলেও দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের সতর্কতা!

চৈত্রের শুরু হতে না হতেই কালবৈশাখীর আমেজ দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছিল জেলায় জেলায়।...

ভোট ঘোষণার পর কমিশনের রদবদল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন দায়িত্বে শীর্ষকর্তারা

ভোট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছিল। তার ২৪ ঘণ্টার...

আজকের রাশিফল: কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, অর্থাগম ও সতর্কতা – ১২ রাশির বিস্তারিত ভবিষ্যৎফল

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রভাব ফেলে—কখনও সাফল্য, কখনও বাধা। আজ কার অর্থভাগ্য উজ্জ্বল, কার কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ, আবার কার...