Saturday, March 14, 2026

এক জাতি এক ভোট: বিরোধিতার কারণ জানিয়ে কমিটির সচিবকে কড়া চিঠি মমতার

Date:

Share post:

এক জাতি এক ভোট: বিরোধিতার কারণ জানিয়ে কেন্দ্রকে করা চিঠি মমতারএক জাতি এক দল- এই এজেন্ডা সামনে রেখে বিরোধীদের মুখ বন্ধের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করছে বিজেপি। এবার তারা ‘এক জাতি এক ভোট’-র ধুঁয়ো তুলেছে। এ বিষয়ে মতামত জানতে চিঠিও দিয়েছিল বিরোধী দলগুলিকে। তারই বিরোধিতা করে কড়া চিঠি লিখলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। স্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। প্রথমেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এক জাতি’ বলতে কী বুঝিয়েছে কেন্দ্র! দেশের বহুত্ববাদের উপর বিজেপি আক্রমণ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

চিঠিতে তৃণমূল নেত্রী লিখেছেন, ১৯৫০ সালে থেকে কয়েকবার লোকসভা এবং বিধানসভার ভোট একসঙ্গে করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরে সেই ক্রম ভেঙে যায়। ‘এক ভোট’ বলতে কি দুটো ভোট এক সঙ্গে করার প্রস্তাব দিচ্ছে কেন্দ্র? চিঠি দিতে স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন মমতা (Mamata Bandopadhyay)। লোকসভা ভোটের সঙ্গে দেশজুড়ে বিধানসভা ভোট-সহ অন্যান্য স্থানীয় ভোট করার সমস্যার কথাও চিঠিতে তুলে ধরেন মমতা। এক জাতি এক ভোটরূপায়ণ করতে কেন পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত বিধানসভাকে আগে ভেঙে দেওয়া হবে? কোনও বিধানসভার মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের পরেও বৃদ্ধি করা হবে? প্রশ্ন তোলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রের উপর মানুষ আস্থা হারাবেন বলে মনে করছেন তিনি।

চিঠির তাঁর আপত্তির ৬টি কারণ জানান তৃণমূল সভানেত্রী। লেখেন, “আমি দুঃখিত যে এক জাতি এক ভোট ধারণার সঙ্গে একমত হতে পারছি না। আমরা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছি না।প্রথমেই এক জাতিধারণাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর কথায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এদেশে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও একাধিক প্রাদেশিক অর্থাৎ রাজ্য সরকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে এক দেশবা এক জাতি এই ধারণার অর্থ কী? তৃণমূল সুপ্রিমো লেখেন, “আমি স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তাই আমি আপনাদের এই পরিকল্পনারও বিরুদ্ধে।

 

একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই লোকসভা ভেঙে দেওয়া হলে এবং নতুন করে সাধারণ নির্বাচন হলে, বিধানসভার ক্ষেত্রে কী হবে- সেগুলিও কি ভেঙে দেওয়া? প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সভানেত্রী।

 

মমতা অভিযোগ করেন, ‘এক জাতি এক ভোটে’র আলোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে রাজ্য সরকারগুলির মতামত না নিয়েই কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত বাকিদের জানাচ্ছে বলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি প্রকাশ হয়ে যাবে বলেই, কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে রাখা হয়নি। নতুন ব্যবস্থা চালু করতে হলে সংবিধান বদলও প্রয়োজন বলে মত মমতার।

spot_img

Related articles

রবিবার সাতগাছিয়ায় অভিষেক: ব্যবসায়ীদের তুলে দেবেন দোকানের চাবি

বরাবরই মানুষের পাশে থেকেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ডাকেই তাকে পাওয়া গিয়েছে সবসময়। এবার বড় কাঁছারী মন্দির সংলগ্ন দোকানগুলির...

পশ্চিমের পর এবার অশান্ত পূর্ব? পরপর ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পূর্ব এশিয়াতেও (East Asia) বাড়ছে উত্তেজনা। শনিবার (Saturday) একসঙ্গে একাধিক...

ব্রিগেডে মোদির ১৮ হাজার কোটির ললিপপ: পাল্টা ২ লক্ষ কোটি দাবি তৃণমূলের

ব্রিগেডে সভা করে বড় কিছু ঘোষণা করবেন। অন্তত নির্বাচনের আগে এমনটা গোটা বাংলার মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। অথচ দেশের...

দিলীপকে কোন কথা বলতেই হেসে উঠলেন বিজেপি নেতারা

EXCLUSIVE অভিজিৎ ঘোষ ব্রিগেডে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী। রয়েছেন বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির সমস্ত নেতৃত্ব। প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কুশল বিনিময় করছিলেন...