Thursday, May 14, 2026

NEET-এর পর্দাফাঁস: ফাঁকা খাতা জমা দিয়েও কীভাবে এত নম্বর? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Date:

Share post:

ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যে উত্তাল দেশ। তবে সময় যত গড়াচ্ছে ততই দুর্নীতির জাল আরও প্রকট হচ্ছে। শুধু নিট (NEET) পরীক্ষা বললে ভুল হবে, একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষাই এবার বন্ধের রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (Modi Govt)। ইতিমধ্যে নিট দুর্নীতিকাণ্ডে বিহার থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে কীভাবে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল? এবার মোদিরাজ্য গুজরাটের গোধরা থেকে ধৃত একটি সেন্টারের শিক্ষকের থেকে জানা গেল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কীভাবে ফাঁকা খাতা জমা দিয়েও নিটে দারুণ র‍্যাঙ্ক পেল পরীক্ষার্থীরা তার আসল রহস্য জানালেন তিনি। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে তাঁদের উত্তরপত্র পূরণ করে দিয়েছিলেন ওই সেন্টারের শিক্ষকই।

তিনি আরও জানিয়েছেন, মোদিরাজ্যের গোধরার ওই সেন্টারে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঠিক উত্তর লিখে দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা দিয়েছিলেন, তাদের আগেই বলা হয়েছিল, যে প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারবে না, সেটি যেন ফাঁকা রাখা হয়। পরে ওই স্কুলের ফিজিক্সের শিক্ষক তুষার ভাট সেই প্রশ্নগুলির উত্তর লিখে দিয়েছিলেন। ধৃতের থেকে আরও জানা গিয়েছে, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষক ও পড়ুয়াদের মধ্যে যত বেশি টাকা দেওয়া হবে, নিট পরীক্ষায় র‌্যাঙ্ক-ও তত বেশি ভাল হবে এমনটাই চুক্তি হয়েছিল। আর তারপরই শুরু হয় টাকা নিয়ে দরাদরির আসল খেলা। অন্যদিকে, জানা যাচ্ছে মূল অভিযুক্তের নাম পরশুরাম রায়। তিনিই নিট পরীক্ষায় পাশ করানোর র‌্যাকেটের মূল মাথা। রায় ওভারসিজ কোম্পানি নামে একটি সংস্থা চালাতেন পরশুরাম। তাঁর সঙ্গী ছিল তুষার ভাট নামক এক যুবক। তিনি গোধরার জয় জলরাম স্কুলের শিক্ষক। অভিযুক্ত পরশুরামের কাছে পরীক্ষার্থীরা টাকা দিয়েছিলেন। আর তার জেরেই গোধরার জয় জলরাম স্কুলের দুটি সেন্টারে পরীক্ষার্থীদের সিটও পড়ে। আর তারপরই চলে ফাঁকা খাতায় নম্বর বাড়ানোর কারসাজি। এরপরই গুজরাটের গোধরার এই সেন্টারে বেনিয়মের অভিযোগ আসার পরই গ্রেফতার করা হয়েছিল স্কুলের প্রিন্সিপাল, শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিক সহ ৫ জনকে। অন্যদিকে, প্রবেশিকা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে ঠিক কি উত্তর লিখতে হবে তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদেরও তলব করেছে পুলিশ। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, অনেক অভিভাবকদের সমন পাঠিয়ে তলব করা হলেও তাঁরা আসেননি। কিন্তু তাঁদের পুনরায় সমন পাঠানো হয়েছে বলে খবর।

গোধরার ডেপুটি সুপারিন্টেডেন্ট এনভি প্যাটেল সাফ জানিয়েছেন, “নিট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত পড়ুয়াদের অভিভাবকদের সমন পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা হাজিরা দেননি। ফের তাঁদের সমন পাঠানো হবে।”

Related articles

জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’! সোমবার আমলাদের মেট্রো সফরের নির্দেশ রেখা গুপ্তার 

মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার জ্বালানি...

মনোবল শক্ত রাখুন, লড়াই চলবে: কালীঘাটের বৈঠক থেকে সতীর্থদের বার্তা নেত্রীর 

মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের...

“১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে...

২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ২১ মে ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট।...