Thursday, June 25, 2026

গণপিটুনিতে কড়া বার্তা রাজ্যের: আইন হাতে নিলে বরদাস্ত নয়, মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য-চাকরি

Date:

Share post:

কড়া হাতে গণপিটুনির ঘটনা মোকাবিল করলে রাজ্য সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও পর পর বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫জন। গণপিটুনির ঘটনা কড়া হাতে মোকাবিলা করার পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি এবং পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় (Alapan Banerjee)। আইন হাতে তুলে নিয়ে বরদাস্ত নয়- কড়া বার্তা ADG আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মার (Manoj Bharma)।আলাপনের (Alapan Banerjee) কথায়, “যেকোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। অর্থ বা চাকরি দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের তরফে পরিবারগুলির পাশে থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত।” তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথা রাজ্য সরকারের গোচরে এসেছে। এই সূত্রে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে সর্বাধিক সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং কড়া আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। মানুষকেও জাগ্রত ও সতর্ক থাকতে হবে। ঘটনাগুলি দুঃখজনক। এই সকল ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কোনও ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়। তথাপি, অর্থনৈতিক সহায়তার লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিতে নিকট আত্মীয়কে একটি করে স্পেশ্যাল হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। এছাড়া পরিবার পিছু দু-লক্ষ টাকা অর্থনৈতিক সাহাস্য দেওয়া হবে।”

ADG আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মার তরফে জনগণকে আবেদন, “হাতে আইন তুলে নেবেন না। কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে পুলিশকে জানান।” একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের এডিজি স্পষ্ট জানান, “আইন হাতে তুলে নিলে আমরা বরদাস্ত করব না।” একই সঙ্গে পুলিশকে নজরদারি ও জনসংযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

রাজ্যে গত কয়েকদিনে নিছক সন্দেহের বশে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। মর্মান্তিক ওই সব ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের হয় চোর অথবা ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়েছে। অথচ পরে দেখা গিয়েছে, যে সন্দেহ বা অপবাদে এই সব গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে বিন্দুমাত্র যোগ নেই মৃত ব্যক্তিদের। শুধু গুজব, সন্দেহ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের জায়গা থেকে মর্মান্তিক ভাবে তাঁদের পিটিয়ে মারা হয়েছে। আর সেই সব মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদের পরিবার শুধু মানসিক ভাবেই ধাক্কা খায়নি, ধাক্কা খেয়েছে অর্থনৈতিক ভাবেও। কেননা অনেকেই ছিলেন নিজ পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের এদিনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।





Related articles

শিলিগুড়িতে মূক ও বধির মহিলাকে গণধর্ষণ! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ পরিবারের

ভোটের আগে ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে মাঠ কাঁপানো বিজেপি যে নারী নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ, তা আরও একবার...

নির্মাণ বন্ধে শ্রমিকদের কী হবে? বিধানসভার করিডরে শুভেন্দুকে প্রশ্ন কুণালের 

তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ের পরে কলকাতা পুর-এলাকার সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার...

ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা খাস কলকাতায়, মৃত দুই বাইক আরোহী

খাস কলকাতার বুকে ফের বাস দুর্ঘটনা। ঘাতক বাসটি হল L238। বারাসাত থেকে হাওড়াগামী বাসের ধাক্কায় এর আগেও বহু...

তারাতলা কাণ্ডে আটক ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি-র দায়িত্বে থাকা কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল তারাতলা কাণ্ডে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী...