Wednesday, January 14, 2026

রাজ্য বিধানসভায় পেশ ধর্ষণবিরোধী বিল, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় বদলের প্রস্তাব

Date:

Share post:

বিধানসভায় (Assembly) পেশ ধর্ষণবিরোধী ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’। আর জি কর-কাণ্ডের (RG Kar Medical College and Hospital) আবহে ধর্ষণ, মহিলা নির্যাতন রুখতে কড়া আইন আনার দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার এই নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল বাংলার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আইন আনার দাবি জানিয়েছিলেন। কেন্দ্রের তরফে এ ব্যাপারে সোমবার পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ চোখে না পড়ায় রাজ্যের তরফে মঙ্গলবার বিধানসভায় নতুন সংশোধনী বিল পেশ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এদিন অধিবেশন শুরু হতেই প্রথমে আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক বিলটির কথা বললেন। এরপরই বিরোধীদের সুযোগ করে দেওয়া হয় নিজেদের বক্তব্য রাখার জন্য। বিলকে সমর্থন জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অপরাজিতা বিল (Aparajita women and Child Act) দ্রুত কার্যকরী করার দাবি করেন তিনি।

‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’-এর প্রস্তাব:

* ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণের সাজা অন্তত ১০ বছর কারাদণ্ড, যা যাবজ্জীবনও হতে পারে।কিন্তু রাজ্যের সংশোধনী বিলে ধর্ষণের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড, জরিমানা, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
* জরিমানার টাকায় নির্যাতিতার চিকিৎসা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই জরিমানার টাকা দিতে হবে।
* ‘অপরাজিতা মহিলা এবং শিশু (পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ আইন সংশোধনী) বিল ২০২৪’-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫ ধারা মুছে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৬, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ১২৪ ধারাতেও বদল আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
* ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩-এর আইনে নতুন ধারা যোগের প্রস্তাবও আনা হয়েছে বিলে। ৪৬ নম্বর ধারার ৩এ উপধারায় নতুন ধারা যোগ করে প্রতি জেলায় ‘বিশেষ আদালত’ তৈরির কথা বলা হয়েছে যেখানে ধর্ষণের মামলার বিচার হবে।


* এই ধরনের অপরাধে বিচার করবেন রাজ্যের দায়রা বিচারক বা অতিরিক্ত দায়রা বিচারক। কলকাতা হাই কোর্টের সম্মতি নিয়েই চলবে বিচার।
* ৪৬ নম্বর ধারার ৩বি উপধারায় নতুন ধারা যোগ করে জেলা স্তরে ‘অপরাজিতা টাস্ক ফোর্স’ গঠনের কথা বলা হয়েছে যার দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক।
* ধর্ষণের মামলার তদন্তভার মহিলা অফিসারদের দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তদন্তে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি করাতে চাইলে তাঁরও ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার পর্যন্ত শাস্তি হবে।
* সংশোধিত বিলে FIR দায়েরের ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে SP পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত ১৫ দিনের সময় দেওয়া হবে তদন্তের জন্য। বিলে আরও প্রস্তাব, চার্জশিট জমা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

spot_img

Related articles

রাজকোটে শতরান করে নয়া নজির, সেলিব্রেশন বদলে ফেললেন রাহুল

বিরাট রোহিতদের ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল কেএল রাহুল(KL Rahul )। ফের একবার ভারতীয় ব্যাটিংয়কে ভরসা দিলেন কঠিন সময়ে। শতরান...

বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্যসভা নির্বাচন, প্রস্তুতি শুরু কমিশনের

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার নির্বাচন করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২ এপ্রিল...

প্রকল্প দ্রুত সম্পাদনে সক্রিয় ও কার্যকর নজরদারি

অলকেশ কুমার শর্মা ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হল পরিকাঠামো ক্ষেত্র। উন্নতমানের পরিকাঠামো কেবল উন্নত পরিষেবার স্থায়ী চাহিদাই সৃষ্টি...

রাজনৈতিক কথা নয়, রাজ্য সরকারের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা: অভিষেকে মুগ্ধ রঞ্জিত

ছক ভেঙে নিজে গিয়ে টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata...