Monday, May 11, 2026

মুখ পুড়ল বঙ্গ বিজেপির, যাদবপুরে মিছিল করতে আনতে হল নন্দীগ্রামের লোক!

Date:

Share post:

দলের ছাত্র সংগঠন বলে কিছু নেই। এবিভিপি খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না। এই অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম থেকে লোক এনে যাদবপুর ইস্যুতে মিছিল করে বিজেপির মুখ পোড়াল গদ্দার অধিকারী। লজ্জার এখানেই শেষ নয়! নন্দীগ্রাম থেকে বাস ভাড়া করে আনতে হয়েছে সেটা একটি দিক। তার থেকেও বড় বিষয়, নন্দীগ্রামে বাস সংগঠনের কাছ থেকে বাস ভাড়ায় চাওয়া হলে তারাও চারটের বেশি বাস দিতে চাননি। সকালের জলখাবার, দুপুরের ভূরিভোজ, বিকেলের টিফিন। সঙ্গে কলকাতা ঘোরানোর টোপ। এসবের ঢালাও ব্যবস্থা করা হলেও বাস ভরাতে পারেনি গদ্দার ও তার বাহিনী।

বিজেপির মণ্ডল সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ও নন্দীগ্রাম থেকে আনা বাসের ছবি পোস্ট করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, বিজেপির হাল! মিছিল যাদবপুর ইস্যুতে যাদবপুরে। কিন্তু লোক আনতে হল নন্দীগ্রাম থেকে। কোনও একটি এলাকায় সেখানকার জমায়েত করার ক্ষমতা নেই। তাছাড়া বিরোধী দলনেতার মিছিল অন্য একটি শিবির না এসে ডোবাবে বলে নিজেই কিছু লোক জোগাড়ের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। বুঝুন দলটার অবস্থা।

নন্দীগ্রাম তৃণমূল কংগ্রেসের ১ নম্বর ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ জানিয়েছেন, বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি যাদবপুরের মিছিলের জন্য ফেসবুকে পোস্ট করে লোক জোগাড় করতে মাঠে নেমেছিল। শনিবার করা ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘রবিবার (আগামীকাল বলে লেখা) সকাল ছয়টায় নন্দীগ্রাম মণ্ডল ১-এর পক্ষ থেকে মহম্মদপুর পাকার ব্রিজ, শ্রীপুর, টেঙ্গুয়া হইতে বাস ছাড়বে। সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন জানাই’। তবেই বুঝুন। বিজেপির সংগঠনের অতি করুণ অবস্থা একেবারে প্রকাশ্যে এল এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে। যাদের যাদবপুরে মিছিল করার লোক জোটে না তারা আবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের খোয়াব দেখে! কটাক্ষ বাপ্পাদিত্যর।

তৃণমূলের বক্তব্য, প্রথমত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবকুপার সম্মেলনে গিয়ে বামগুন্ডা ও লুম্পেনদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও অন্যান্য অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা। এখানে বিজেপি বা এবিভিপির কোনও ভূমিকা নেই। অথচ শুধুমাত্র ফুটেজ খাওয়ার জন্য ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে বিজেপি। তাও বোঝা যেত যদি কলকাতার ছাত্র সংগঠন ও লোকজন দিয়ে মিছিল করতে পারত। সে মুরোদ হয়নি। এদিন মেরেকেটে হাফ কিলোমিটার মিছিল করেছে তারা। রবিবাসরীয় সকালে গদ্দার অধিকারীর এই হাস্যাস্পদ কাজকর্ম দেখে বিজেপির অন্দরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দলের অন্দরেরই চলছে ছিচ্ছিক্কার! কলকাতাতেই যখন লোক নেই তখন কোন আক্কেলে নন্দীগ্রাম থেকে লোক এনে মিছিল করতে গেল বিরোধী দলনেতা? এই প্রশ্ন উঠছে বিজেপির অন্দরেই। গদ্দার অধিকারীর এই ধরনের তুঘলকি কাজকর্মে বিরক্ত বিজেপির একটি বড় অংশ।

 

 

 

Related articles

পুলিশের সামনে আগুন ১০ দোকানে! ডবল ইঞ্জিন দুর্ভোগ তুলে ধরে সরব অভিষেক

রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। সদ্য ক্ষমতায় আসা বাংলার বিজেপি সরকার দাবি করছে...

আবারও বিজেপির আগুন-সন্ত্রাস! খেজুরিতে পরপর পুড়ে ছাই দোকান 

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতো খেজুরিতেও রাজনৈতিক হিংসার ছবিটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। গত...

জ্বালানি সংকট: মানলেন মোদি, দেশাত্মবোধের নামে লকডাউন পরিস্থিতি ফেরানোর বার্তা!

গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলাকালীন ভারতের বিজেপি সরকার বারবার এই দেশে জ্বালানির সংকটের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা চালিয়ে...

শান্তিকুঞ্জের সামনে ব্রোঞ্জের বাঘ! প্রিয় নেতার জন্য অভিনভ উপহার নিয়ে হাজির দমদমের উত্তম 

রাজনীতিতে কখনও তিনি ‘মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র’, কখনও আবার স্রেফ ‘দাদা’। তবে তাঁর অনুরাগীদের চোখে তিনি ‘বাংলার বাঘ’। সেই আবেগকে...