Sunday, April 26, 2026

কে বেশি ভারত’প্রেমী’! চিনের প্রতিশ্রুতির পাল্টা আমেরিকার ভান্স

Date:

Share post:

বিশ্ব বাণিজ্যের রাশ কার হাতে থাকবে – চরম দ্বন্দ্বে আমেরিকা, চিন। আর সেই দ্বন্দ্বে ভারতের গুরুত্ব যে কতটা স্পষ্ট ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের ভারতকে কাছে টানার প্রতিযোগিতাতেই। ভারতের উপর চাপানো আমেরিকার শুল্ক নিয়ে আলোচনা করতে ভারতে আসছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স (J D Vance)। তার আগেই তড়িঘড়ি একাধিক ভারত-মুখী ঘোষণা করে ভারতকে নিজেদের পক্ষে করে রাখার পথে সি জিনপিং (Xi Jinping) প্রশাসন। আখেরে যদিও একদিকে আমেরিকা, অন্যদিকে চিনের বাজারে ভারতের মুনাফা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বা লাদাখ এলাকা নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাখারও পথে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)।

ভারত থেকে আমদানি করা দ্রব্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর পরও চাপ জারি রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভারতের অটোমোবাইলের উপর আরও ২৭ শতাংশ শুল্ক জারি রাখার ঘোষণা করা হয়। এরপরই ভারতের বিদেশমন্ত্রক, অর্থ মন্ত্রকের তরফে শুরু হয় আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা। এবার ২১ এপ্রিল ভারতের আসছেন ট্রাম্পের ডেপুটি জে ডি ভান্স (J D Vance)। তাঁর চারদিনের সফরের প্রধান উদ্দেশ্যই ভারতের সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক দিকগুলি নিয়ে আলোচনা। হতে পারে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও। ইতিমধ্যেই ভারত আমেরিকার উপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। পাল্টা ট্রাম্পের ৯০ দিনের শুল্ক স্থগিতের সুবিধা উপভোগ করছে ভারত।

এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভালো হলে চাপে পড়বে চিন। প্রতিবেশী দেশ তাই তড়িঘড়ি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতিতে নজর দিলো। সীমান্তের বিবাদমান এলাকাগুলিতে নজর চিনের। এ বছর থেকে সাধারণ নাগরিকেরা কৈলাস ও মানস সরোবরে (Manas Sarovar) তীর্থ যাত্রা করতে যেতে পারবেন, ইঙ্গিত দেওয়া হল বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এই যাত্রা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এবার শুল্কের লড়াইতে সেই পথ খুলতে বদ্ধ পরিকর ভারত।

তবে বাণিজ্যে আরও বেশি নজর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক তৈরিতে আরও বেশি আগ্রহী চিন। ইতিমধ্যেই চিন থেকে ভারতের আমদানি (import) এক লাফে বিরাট বেড়ে গিয়েছে। এক বছরে চিন থেকে আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। উল্টোদিকে ভারত থেকে চিনে রফতানি (export) কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। আগে যেখানে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের দ্রব্য ভারত চিনকে রফতানি করত, সেখানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় নিজেদের জিনিস বিক্রি করে মালামাল হয়েছে চিন। আর ভারতে তৈরি জিনিসের ক্রমশ বিক্রি কমেছে চিনের বাজারে। তাতে ভারত যে চিনের প্রতি বিমুখ হতে পারে, সেই আশঙ্কা করে এবার চিনের বাজার ভারতের জন্য খুলতে প্রস্তুত বলে জানাচ্ছে চিন। ইতিমধ্যেই ভিসা নীতিতে বদলে তার ইঙ্গিত মিলেছে। সেক্ষেত্রে ভারত কোন পক্ষ নেবে – আমেরিকা না চিন, সেই সিদ্ধান্তও খুব শীঘ্র হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Related articles

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রবি- সোমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ মহানগরীতে

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারের প্রায় শেষ পর্বে রবিবার ফের রাজ্যে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদির...

হোয়াইট হাউসে বন্দুকবাজের হানা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের Donald Trump) সামনেই চলল গুলি, শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের (White House) নৈশভোজে বন্দুকবাজের হানা।...

এই আপ সাংসদদের ১০টা ভোটও জেতার ক্ষমতা নেই: ধুইয়ে দিলেন ওমর

জাতীয় রাজনীতিতে সাত আপ সাংসদের দলবদল নিয়ে যখন জোর চর্চা তখন এই সাংসদদের বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ ন্যাশনাল...

‘চলমান ধ্যান’, উৎপল সিনহার কলম

হাঁটার চেয়ে ভালো ব্যায়াম আর নেই। পাশাপাশি থাকবে সাঁতার। কিন্তু পিছন দিকে হাঁটা? এটাও কি ভালো ব্যায়ামের মধ্যে...