Sunday, April 5, 2026

নাট্যকার, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, মন্ত্রী! ‘এই অবগাহন’-এ বহু ব্রাত্যের উন্মোচন

Date:

Share post:

তিনি একাধারে মন্ত্রী, রাজনীতিক, নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক, শিক্ষক— অথচ কোনও এক পরিচয়ের গণ্ডিতে তাঁকে বাঁধা যায় না। সেই বহুমাত্রিক ব্রাত্য বসুকেই কেন্দ্র করে শনিবার প্রকাশ পেল সাহিত্যপত্রিকা ‘এই অবগাহন’-এর বিশেষ সংখ্যা। একশোরও বেশি প্রবন্ধে নির্মিত এই ব্রাত্য বসু-সংখ্যা যেন তাঁর জীবন ও কর্মের এক বিস্তৃত ক্যানভাস— যেখানে রাজনীতি আর সাহিত্য, মঞ্চ আর প্রশাসন এক আশ্চর্য সুরে মিশেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই বিশেষ প্রকাশ-অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং ব্রাত্য বসু ছাড়াও ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদার, লেখক প্রচেত গুপ্ত, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রমুখ। প্রকাশিত হল তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটও, যেখানে তাঁর রচিত ও নির্দেশিত নাটকের সংরক্ষিত তালিকা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর উপস্থিতির সমস্ত খতিয়ান পাওয়া যাবে।

এই পত্রিকার প্রতিটি লেখায় ধরা পড়েছে ব্রাত্য বসুর সৃষ্টিশীলতার বহুবর্ণ চিত্র। কখনও নাট্যকার, কখনও কবি, কখনও অধ্যাপক, আবার কখনও এক অবিচল প্রশাসক— প্রতিটি স্তরে তাঁর ভূমিকা গভীর, সংবেদনশীল ও প্রশ্নসন্ধানী। এই জটিল ও বৈচিত্র্যময় ব্রাত্যকে ধরতেই যেন ‘এই অবগাহন’-এর এই প্রয়াস।

অনুষ্ঠানে নাটকের রোমাঞ্চ নিয়ে বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “সিনেমায় অনেকবার দৃশ্য ধারণ করা যায়। কিন্তু মঞ্চে প্রতিটি মুহূর্তই চূড়ান্ত পরীক্ষা। ব্রাত্য সেই অগ্নিপরীক্ষায় বহুবার উত্তীর্ণ। তিনি ইতিহাসকে উপন্যাসে রূপ দেন, আবার নাটকে তুলে আনেন জীবনের অন্য বাস্তবতাকে।”

তিনি আরও বলেন, “ব্রাত্য বসু শুধুই অভিনেতা নন, তিনি অভিনেতাদের ভেতর থেকেও নতুন কিছু বার করে আনতে জানেন। জমি আন্দোলনের সময় যেভাবে মাটির কাছে নেমে এসেছিলেন, সেটা ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে।”

প্রচেত গুপ্ত বলেন, “এমন একটি দলিল তৈরি হল, যা আগামী দিনের জন্য গর্বের বস্তু। ব্রাত্যর সাহিত্যচর্চার জন্য তিনি এখনও যে সম্মান পাওয়ার যোগ্য, তা বাকি রয়ে গিয়েছে।”

নিজের প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত ব্রাত্য বসু বলেন, “আমি সাধারণত এই ধরনের অনুষ্ঠানে আসতে চাই না। তবে আজকের এই আয়োজন অন্যরকম। ৫০ বছর পর আমরা ক’জনই বা থাকব! তবু এই লেখাগুলি থাকবে। এই দলিল থাকবে।” তিনি জানান, এই সংখ্যায় যেমন সিনেমার পরিচালক, কবি, সাহিত্যিকদের লেখা রয়েছে, তেমনই রয়েছে তাঁর নানা দিকের মূল্যায়ন। “একশোর বেশি লেখা জোগাড় করে অরীন্দ্রজিৎ যে পরিশ্রম করেছে, তা সত্যিই অনবদ্য,” বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা জানি না আগামী দিনের দরজা হঠাৎ করেই খুলে যাবে কিনা। কিন্তু যতদিন এই দরজাগুলি বন্ধ না হচ্ছে, ততদিন লিখে যেতে চাই, বলতে চাই, ভাবতে চাই।”

আরও পড়ুন – বিচার না মেলা পর্যন্ত চা ফুটবে! প্রতিবাদে ‘৪৯৮এ টি ক্যাফে’ খুললেন যুবক 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

কিছুক্ষণের মধ্যেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি! রাজ্যের ৮ জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস

রবিবারের সকালে মেঘলা আকাশ, ঝোড়ো হাওয়া দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়। আলিপুর আবহাওয়া অফিস (Alipore Weather Department) বলছে, কয়েক ঘণ্টার...

রবিবার পূর্ব বর্ধমান থেকে প্রচার শুরু করবেন অভিষেক, জনসভা গোসাবা-সাতগাছিয়াতেও

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) দলীয় প্রচারে প্রত্যেকদিন রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জনসভা কর্মসূচি...

‘নিজের ঘর’, উৎপল সিনহার কলম

প্রিয়তম , আমি নিশ্চিত যে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে , আমরা এই ভয়াবহ সময়ের মধ্যে দিয়ে...

ভোট প্রচারে আজ মুর্শিদাবাদে জোড়া জনসভা, দুপুরে বহরমপুরে রোড-শো মুখ্যমন্ত্রীর 

বাংলার দুয়ারে নির্বাচন, তৃণমূলসুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে ঘাসফুলের কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ...