Monday, June 15, 2026

দুর্নীতির প্রতিবাদ করে মুখ্যমন্ত্রীর রোষে মন্ত্রী, গোয়া মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন গোবিন্দ গাউড়ে

Date:

Share post:

গোয়ায় (Goa) প্রকাশ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক মনোভাব। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত (Promad Sawant) বুধবার রাজ্যের শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী গোবিন্দ গাউড়েকে (Govinda Gaude) রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আদিবাসী কল্যাণ বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন গোবিন্দ। এরপরেই রাজ্যপাল পিএস শ্রীধরন পিল্লাই মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশ মেনে নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, BJP-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গৌড়েকে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি গোয়া ইউনিটের সভাপতি দামোদর নায়েক নিশ্চিত করেছেন যে গাউড়েকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে নায়েক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, “এটি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত।” দলীয় সূত্রে খবর, গত মাসের ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী (Promad Sawant) গাউড়েকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য নেতৃত্ব দিল্লির কেন্দ্রীয় দলীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। ২৬ মে রাজ্যস্তরের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে, ক্রীড়া ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা গাউড়ে রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণ বিভাগকে ‘অদক্ষ’ বলে নিশানা করেন এবং দাবি করেছিলেন যে এই বিভাগের কর্মকর্তারা ফাইল স্বাক্ষর করার জন্য ঘুষ নিচ্ছেন।

গাউড়ে এদিন নিজে বক্তব্যে বলেন, “করদাতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ উপজাতি কল্যাণ বিভাগকে বরাদ্দ করা হয়। যদি তারা এই কর্মসূচিটি দক্ষতার সাথে পালন করতে না পারে, তাহলে এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা। তিনি জানান যে তিনি মনে করেন প্রশাসন আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারদের ফাইলগুলি শ্রম শক্তি ভবন (একটি সরকারি ব্লক) পরিচালনা করে। তাদের কাছ থেকে কিছু নেওয়া হয়, এবং তারপর তাদের ফাইল জমা দিতে বলা হয়।”

তাঁর এই মন্তব্যের পরেই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভায় উপজাতি মুখ ছিলেন গাউড়ে। ২০১৭ সালে বিজেপির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো গোয়া বিধানসভায় নির্বাচিত হন এবং মনোহর পারিকরের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্থান পান। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে গাউড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এবং প্রিওল বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী রামকৃষ্ণ সুদিন ধাবলিকরের ছোট ভাই মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সভাপতি দীপক ধাবলিকরকে তিনি পরাজিত করেন।

Related articles

NCPI-তে যোগ দলত্যাগী সাংসদদের: ব্যাঙের ছাতায় কেন, প্রশ্ন তৃণমূলের

লোকসভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের দল ছেড়ে এনডিএকে সমর্থনের দাবি করেছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শেষ...

নেহরুর রেকর্ড ভেঙে মোদির একযুগ: ঋণের পাহাড়, বেকারত্ব ও প্রশ্নফাঁসের ১২ বছর 

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে পিছনে ফেলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। দেশজুড়ে বিজেপির ধান্দাবাজ...

পেট্রোল-ডিজেল ছাড়া ইথানলেই গাড়ি! গড়কড়ির সিদ্ধান্তে সংকটে দেশ

এবার দেশে ১০০ শতাংশ ইথানলে (E100) গাড়ি চালানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি...

চাপের কাছে ‘বেসামাল’ হয়েই বিদ্রোহী শিবিরে সুদীপ! ‘বিশ্বাসঘাতক’ দাবি কুণালের

যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার রেবেল তৃণমূলদের সঙ্গে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দেখা গেল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে...