Thursday, June 4, 2026

বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বিজেপি মুখপাত্রের নিয়োগ! বিতর্ক চরমে

Date:

Share post:

প্রশ্নের মুখে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা। এবার বম্বে হাইকোর্টের (Bombay High Court) বিচারপতি হিসাবে মহারাষ্ট্রের যে মহিলা আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছে তিনি মহারাষ্ট্রে বিজেপির মুখপাত্র ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টে তিনজনকে বিচারপতি (Justice) পদে নিয়োগ করেছে। এই তালিকায় আছেন ওই বিজেপি নেত্রীও। আর এনিয়েই ঝড় উঠেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। এই নিয়োগের জেরে সরাসরি স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলীয় নেতারা বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে আইনজীবী আরতি শাঠের (Aarti Sathe) নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আরতি মহারাষ্ট্র বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ২৫ জুলাই, ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কলেজিয়ামের বৈঠকে শাঠের নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সরকারিভাবে নিয়োগের পরই বিরোধী নেতারা দাবি তুলেছেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্রবযুক্ত আরতি শাঠেকে অপসারণ করতে হবে। এনসিপি (এসপি)-এর বিধায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক রোহিত পাওয়ার বলেছেন, শাসক দলের পক্ষে জনসমক্ষে ওকালতি করা এবং মুখপাত্র হিসাবে স্পষ্টভাবে শাসক দলের বক্তব্য তুলে ধরা কোনো ব্যক্তিকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা গণতন্ত্রের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই কি রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি বিচারপতি (Justice) হিসেবে নিয়োগ করা যায়? এটা কি বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করার সমতুল্য নয়? মহারাষ্ট্রের এই বিরোধী নেতা আরও যোগ করেছেন যে, এই ধরনের নিয়োগ ভারতীয় বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রকে (spokesperson) সরাসরি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা কি ক্ষমতা বিভাজনের নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং এর মাধ্যমে কি সংবিধানকে উৎখাত করার চেষ্টা করে না? যখন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পটভূমি থাকে এবং যিনি সক্রিয়ভাবে শাসক দলের পদে ছিলেন, তখন কে গ্যারান্টি দিতে পারে যে ন্যায়বিচার প্রদানের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দ্বারা কলুষিত হবে না? একজন একক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিয়োগ কি সমগ্র বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে না? রাজ্যের বিরোধী শিবসেনা(ইউটি) এবং কংগ্রেস নেতারাও সরকারকে শাঠের নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Related articles

রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ! নবান্নে বৈঠক শুভেন্দু-আদানির

দায়িত্বভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার নবান্নে...

বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ সূর্য, টি২০-তেও নতুন নেতা

  ২০২৪ সালে ভারতকে টি২০ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন রোহিত শর্মা। এবার বিশ্বকাপ জিতিয়েও...

‘তৃণমূল মানেই মমতা’, দলবিরোধীদের কড়া ভাষায় তোপ বিধায়ক কুণালের 

তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল, এই সত্য গোটা বিশ্ব জানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইদানীং...

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ আদালতের 

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এতদিনেও...