Saturday, April 4, 2026

বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বিজেপি মুখপাত্রের নিয়োগ! বিতর্ক চরমে

Date:

Share post:

প্রশ্নের মুখে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা। এবার বম্বে হাইকোর্টের (Bombay High Court) বিচারপতি হিসাবে মহারাষ্ট্রের যে মহিলা আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছে তিনি মহারাষ্ট্রে বিজেপির মুখপাত্র ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টে তিনজনকে বিচারপতি (Justice) পদে নিয়োগ করেছে। এই তালিকায় আছেন ওই বিজেপি নেত্রীও। আর এনিয়েই ঝড় উঠেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। এই নিয়োগের জেরে সরাসরি স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলীয় নেতারা বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে আইনজীবী আরতি শাঠের (Aarti Sathe) নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, আরতি মহারাষ্ট্র বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ২৫ জুলাই, ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) কলেজিয়ামের বৈঠকে শাঠের নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সরকারিভাবে নিয়োগের পরই বিরোধী নেতারা দাবি তুলেছেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্রবযুক্ত আরতি শাঠেকে অপসারণ করতে হবে। এনসিপি (এসপি)-এর বিধায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক রোহিত পাওয়ার বলেছেন, শাসক দলের পক্ষে জনসমক্ষে ওকালতি করা এবং মুখপাত্র হিসাবে স্পষ্টভাবে শাসক দলের বক্তব্য তুলে ধরা কোনো ব্যক্তিকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা গণতন্ত্রের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, শুধুমাত্র বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকলেই কি রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি বিচারপতি (Justice) হিসেবে নিয়োগ করা যায়? এটা কি বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করার সমতুল্য নয়? মহারাষ্ট্রের এই বিরোধী নেতা আরও যোগ করেছেন যে, এই ধরনের নিয়োগ ভারতীয় বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রকে (spokesperson) সরাসরি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা কি ক্ষমতা বিভাজনের নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং এর মাধ্যমে কি সংবিধানকে উৎখাত করার চেষ্টা করে না? যখন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পটভূমি থাকে এবং যিনি সক্রিয়ভাবে শাসক দলের পদে ছিলেন, তখন কে গ্যারান্টি দিতে পারে যে ন্যায়বিচার প্রদানের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দ্বারা কলুষিত হবে না? একজন একক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিয়োগ কি সমগ্র বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে না? রাজ্যের বিরোধী শিবসেনা(ইউটি) এবং কংগ্রেস নেতারাও সরকারকে শাঠের নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Related articles

মালদহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: হাঁটবেন ইংরেজবাজার প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে

নির্বাচনের আগে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মালদহের একাংশে। কার্যত বহিরাগত রাজনৈতিক দলকে কাজে লাগিয়ে বাংলাকে বদনাম করার যে...

আজ পশ্চিমের দুই জেলায় অভিষেক: রয়েছে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো

রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূল প্রার্থীদের শক্তির পরিচয় সাধারণ মানুষকে করিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক...

মায়ানমারে ক্ষমতায় জুংটা: রাষ্ট্রপতি পদে শপথ সেনাপ্রধান মিন লাইংয়ের

সংসদীয় নির্বাচনে জিতে ফের মায়ানমারের ক্ষমতায় সামরিক দল জুংটা। শুক্রবার দেশের রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সামরিক প্রধান মিন...

রাহুলের মৃত্যু নিয়ে ম্যাজিক মোমেন্টসের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় আর্টিস্টস ফোরাম,শনিতে FIR-র সিদ্ধান্ত

অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুতে টলিউডের অন্যতম নামী প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের (magic moments) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করতে চলেছে আর্টিস্টস...