Tuesday, February 3, 2026

মোদি সরকারের আত্মসমর্পণ! ভারতে মহিলা সাংবাদিকদের উপর ‘তালিবানি শাসনে’ বিতর্ক

Date:

Share post:

দুদিন আগেই ভারতে পা রেখেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিক বৈঠক – সর্বত্র দেশী ও বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতি যে চোখে পড়ার মতোই থাকবে, তা ছিল বলাই বাহুল্য। সেখানে সাংবাদিকদের কোনও লিঙ্গভেদ ছিল না। আর সেটাও ছিল প্রত্যাশিত। অথচ তার পরেরদিনই সাংবাদিক বৈঠকের ছবিটা সেই ভারতেই বদলে গেল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিদেশ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে। তিনি তালিবানি শাসন ছেড়ে ভারতে এসে সাংবাদিক বৈঠক (press conference) করলেও সেই সাংবাদিক বৈঠকে জারি থাকল কড়া তালিবানি (Taliban) শাসন। ঢুকতে পারলেন না কোনও মহিলা সাংবাদিক। মোদির সরকার সেই ফতোয়াই মেনে নিল দেশের রাজধানীতে। স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির বিজেপি সরকারের এই মেরুদণ্ডহীনতায় সরব তৃণমূল থেকে সব বিরোধীদলগুলি।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকের পরে শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী (foreign minister) আমির খান মুত্তাকি (Amir Khan Muttaqi)। আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে দেশের বা বিদেশের সংবাদ সংস্থাগুলির যে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনও মহিলা সাংবাদিক ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে বর্খা দত্ত-সহ একাধিক ভারতীয় মহিলা সাংবাদিক প্রতিবাদে সরব হন। এই সাংবাদিক বৈঠককে ‘মেল ওনলি’ (male only) বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। ভারতের মাটিতে তালিবান প্রোটোকল মেনে কীভাবে আমির মুত্তাকির দাবি মেনে নিল বিদেশ মন্ত্রক বা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এক ধাপ এগিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের এই আচরণকে গ্রহণের অযোগ্য ও কুৎসিত বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose)। একে ভারতের মোদি সরকারের বিদেশ নীতির ব্য়র্থতা বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে দুর্বল মোদির মিলিজুলি সরকারের (coalition government) আত্মসমর্পণ বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের একাধিক মহিলা সাংবাদিক দাবি করেন, শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়েছিল মহিলা সাংবাদিকদের। সেখানেই বিদেশমন্ত্রককে ভিতু বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে (Saket Gokhale)। তাঁর দাবি, ভারত নিজের মাটিতে তালিবান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেনি। যে কোনও সভ্য দেশ এই ধরনের মানহানিকর ঘটনা মেনে নিত না। এই ঘটনার জন্য বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) অন্তত মহিলা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: তালিবান মন্ত্রীর ভারত সফরের সময়ই কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণ, নেপথ্যে পাকিস্তান!

এই ঘটায় নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি যখন নিজের দেশের মহিলাদের জনসমক্ষে সমর্থন জানাতে পারেন না, তখনই বোঝা যায় তাঁর নারী শক্তির স্লোগান আদতে কতটা ফাঁকা আওয়াজ। যদিও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে দেশের গবেষকদের সঙ্গে আফগান বিদেশমন্ত্রীর আলোচনাসভায় মহিলা গবেষকদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায় শনিবার। তবে তাতে দেশের মহিলা সাংবাদিকদের সম্মানহানির ঘটনা কোনওভাবেই লঘু হচ্ছে না বলেই দাবি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহলের।

spot_img

Related articles

আজ ইডি-আইপ্যাক মামলার সুপ্রিম শুনানি 

আইপ্যাক অফিসে ইডি হানার ঘটনায় (ED raid in ipac office) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত। গত...

আজ থেকে চলতি বিধানসভার শেষ অধিবেশন, অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশের জন্য তৈরি রাজ্য

মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তিন দিনের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট (Interim Budget)পেশ...

আজকের রাশিফল

কাজ, অর্থ, স্বাস্থ্য আর সম্পর্ক—সব মিলিয়ে দিনটি কেমন কাটতে পারে, দেখে নিন আজকের রাশিফল মেষ: দূর প্রান্ত বা বিদেশে...

শহরতলির যানজট রুখতে উদ্যোগী নবান্ন, শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষা

কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য...