দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শুরু করার ঘোষণা করতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এমনভাবে গোটা বিষয়টি পেশ করেছিলেন, যেন গোটা বিষয়টা সাধারণ মানুষ, অর্থাৎ ভোটারদের জন্য ভীষণ সহজ। আদতে বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম (enumeration form) ফিলাপের কাজ শুরুর পরই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। আদতে কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে তালিকায় আগে নাম থাকা ব্যক্তি কাকা বা দাদা হতে পারবেন বলে যে ঘোষণা জোর গলায় করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার, তা মিলছে না খোদ বিএলওদের (BLO) সফটওয়্যারের (software) সঙ্গে। সেখানে এরকম কোনও অপশনই (option) নেই। কমিশনের এই দ্বিচারিতায় ধুইয়ে দিল বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

জ্ঞানেশ কুমার দাবি করেছিলেন, ইনিউমারেশন ফর্মে তালিকায় আগে নাম থাকা ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিক রক্তের সম্পর্কে থাকলে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কাকা (uncle) অর্থাৎ ‘চাচা’ শব্দটি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। আদতে যখন বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, তখন দেখা যাচ্ছে তাঁরা যে সফটওয়্যারে কাজ করছেন সেখানে কাকা-র কোনও অপশনই নেই। সফটওয়্যারে পাওয়া যাচ্ছে – ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি ও ট্রান্সজেন্ডারের অপশন। কোথাও দাদা, দিদি বা কাকার কোনও অপশনই নেই।

সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতা নিয়ে তৃণমূলের তোপ, একদিকে এই দ্বিচারিতা বিএলও-দের সমস্যার মধ্য়ে ফেলছে। অন্যদিকে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে প্রকাশ্যে চলে এসেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commissioner) প্রকাশ্যে পেশ করা বক্তব্য ও বাস্তবে তার কার্যকারিতার মধ্যের বিস্তর ফাঁক। তৃণমূলের (TMC) প্রশ্ন, যদি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) সঠিক হন, তবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সেই মতো কাজ করছে না কেন? আর যদি জ্ঞানেশ কুমার ভুল বলে থাকেন, তবে সেই রকম বক্তব্য গোটা দেশের মিডিয়ার সামনে মানুষকে ভুল পথে চালিত করার জন্য কেন পেশ করা হল?

আরও পড়ুন: মতুয়া-ফায়দা লোটার চেষ্টা: অনশন মঞ্চে হঠাৎ হাজির বাম-কংগ্রেস!

বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি এসআইআর-এর ম্যাপিং (mapping) করতে যাওয়ার পরই এই দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে আসার পরেই কমিশনকে কড়া চিঠি তৃণমূলের (TMC)। তৃণমূলের তরফে কমিশনে চিঠি দেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। দাবি করা হয়, যেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রতিশ্রুতি মতো রক্তের সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণের বিষয়টি বিএলও-দের (BLO) কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সেটি সফটওয়্যারেও আপডেট করার ব্যবস্থা করা হয়। সেক্ষেত্রে কাকা বা রক্তের সম্পর্ক থাকা অন্য ব্যক্তিদের যেন একই পদে রাখা হয়। তা যদি না হয়, তবে নিজেদের নিরপেক্ষ বলে যা দাবি করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন, তা যে কতটা দ্বিচারিতা, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। বাংলার মানুষ নিয়মকে কোনও একটি দলের স্বার্থে ঘুরিয়ে দেওয়া হলে চুপ করে থাকবে না, দাবি তৃণমূলের।

How can the Election Commission of India speak in two voices?
On 27th October, Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar clearly said, a person may enter their uncle’s name or other relatives in the SIR enumeration. But on the ground, the BLO software blocks it completely!
So,… pic.twitter.com/wIduwByxGV
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) November 8, 2025
–

–

–

–


