এনিউমারেশনের পর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। যৌনকর্মী, বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী গোষ্ঠী (পিভিটিজি), আশ্রমের আবাসিক এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য শুনানি প্রক্রিয়ায় বাড়তি সহায়তার কথা উল্লেখ করে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে এই নির্দেশিকা সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য নথি অনুপস্থিত থাকলেও শুধুমাত্র সেই কারণে যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া যাবে না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযুক্তির প্রমাণপত্র পেশ করতে না পারেন, তা হলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে সংশ্লিষ্ট এলাকা, বসতি বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে সেখানে প্রকাশ্য শুনানি বা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়ান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করার কথাও বলা হয়েছে। পুরো যাচাই প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে।
যাচাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতামত, আপত্তি অথবা সম্মতিও শুনানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করতে হবে। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত যাচাই করা তালিকা ইআরও এবং এআরওদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এনুমারেশন ফর্ম নিষ্পত্তির সময় এই নথিগুলির প্রমাণমূল্য বিবেচনার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সমস্ত ভোটারের তালিকা পার্ট অনুযায়ী এবং বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ভাবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে জমা দিতে হবে। এসআইআর ২০২৬ প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।

আরও পড়ুন- বন্দে ভারত স্লিপার ভোটের আগে কেন? প্রশ্ন তৃণমূলের

_

_

_

_
_
_
_
