এবার পথকুকুর মামলায় শর্মিলা ঠাকুরকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করলো দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বুধবার থেকে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং এনভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। মামলা শুনানির তৃতীয় দিনে শর্মিলা ঠাকুরের যুক্তি শোনে সুপ্রিম কোর্ট। অভিনেত্রীর আইনজীবী এদিন এইমস-এ থাকা গোল্ডি নামে একটি পথকুকুরের কথা জানান। যা শুনেই তাঁর যুক্তি ও আবেদন খারিজ করে দেন বিচারকরা। ভর্ৎসনার সুরে জানান, ‘আপনি বাস্তব থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন’।

গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট স্কুল, রেলস্টেশন, হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্বীজকরণের জন্য পথকুকুরদের এই সব এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে আর তাদের ফেরানো চলবে না। যার জেরে দেশ জুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দায়ের হতে থাকে একের পর এক মামলা। মামলা দায়ের করেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও। আরও পড়ুন: গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠুভাবে পালনে তৎপর কলকাতা পুলিশ, বাবুঘাটে কড়া নিরাপত্তা

অভিনেত্রীর আইনজীবী তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চকে তিনি জানান, “যদি কমিটি তৈরি করা যেত, যাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠানে আশ্রিত পথকুকুরদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করবে, তা হলে বিষয়টা ভাল হত। কোনও দুর্ঘটনার আগেই জানা যেত পথকুকুরটি আক্রমণাত্মক নাকি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে চলে। এইমস- গোল্ডি নামে একটি কুকুর আছে বহু দিন ধরেই। কখনও সে আক্রমণাত্মক ব্যবহার করেনি।” তাঁর যুক্তি শুনে সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা বলে, ‘ সেই কুকুরকে কি অপারেশন থিয়েটারেও নিয়ে যাওয়া হয়? আপনি বাস্তব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। হাসপাতালে থাকা পথকুকুরদের মহান করার কোনও প্রয়োজন নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রাস্তায় থাকা বেশিরভাগ কুকুরই টিকে নামের এক ধরনের পোকায় আক্রান্ত থাকে, যা হাসপাতাল চত্বরের জন্য মোটেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে না।
এরপর শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী আর্মেনিয়া ও জর্জিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, কুকুরদের গলায় রঙিন কলার পরানো যেতে পারে, যা তাদের আচরণের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। তবে এই যুক্তিও মানেনি সুপ্রিম কোর্ট । বিচারপতিরা বলেন, “ওই দেশগুলির জনসংখ্যা কত, তা জানেন তো? একটু বাস্তবিক হন।”

–

–

–

–

–

–


