ইরানে খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত। দেশের আর্থিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সরকারি পরিষেবা না মেলার প্রতিবাদে পথে নেমেছে ইরানের আম জনতা। শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত তেহরান-সহ একাধিক শহরের রাস্তায় আন্দোলনকারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির (Reza Pahlavi) ডাকা আন্দোলনে স্বতস্ফূর্ত ভাবেই শামিল হয়েছেন সে দেশের জনসাধারণ। সরকারের বিরুদ্ধে উঠছে স্লোগান। ‘স্বৈরাচারী নিপাত যাক,’ আবার কেউ বলছিলেন, এটাই শেষ যুদ্ধ, পাহলভি ফিরছেন’। রাজধানী তেহরান (Tehran) ও আশপাশের এলাকায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভের ছাপ। রাস্তায় বেশিরভাগ জায়গায় পড়ে আছে গাড়ির ভাঙা কাচ ও ধ্বংসাবশেষ। কড়া হাতে বিদ্রোহ দমন করছে ইরানের (Iran) নিরাপত্তা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সে দেশের সরকার বন্ধ করে দিয়েছে ইন্টারনেট (internet ban) এবং টেলিফোন সংযোগ পরিষেবা (landline stopped)।

ইরান জুড়ে প্রায় ১২ দিন ধরে চলছে এই বিক্ষোভ। ইতিমধ্যেই সেনা-পুলিশের হামলায় ইরানে প্রায় ৪৫ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে। আটকের সংখ্যা ২২৭০ ছাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা চলবে না। বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “যদি ইরান প্রশাসন মানুষ মারতে শুরু করে, তা হলে আমরা তাদের উপর খুব কঠিন আঘাত হানব।”

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Ali Khamenei) বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করার ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষণের সময় উপস্থিত সমর্থকরা ‘ডেথ আমেরিকা’ স্লোগান তোলে। খামেনেই বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা অন্য দেশের রাষ্ট্রপতিকে খুশি করতে নিজেদের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে।’ একদিকে অভ্যন্তরীণ অশান্তি, অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকি, সবমিলিয়ে জেরবার ইরানের সরকার। তবে গত কয়েক বছরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বিক্ষোভকে।
আরও পড়ুন : উত্তাল ভেনেজুয়েলা-ইরানে ভারতীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশ, করা হচ্ছে যোগাযোগ

ইরান (Iran) সরকার ইন্টারনেট বন্ধ (internet ban) করার ঠিক আগে কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খামেনেইয়ের (Ali Khamenei) ছবিতে আগুন জ্বালিয়ে সেখান থেকে সিগারেট ধরাচ্ছেন তরুণী। খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলতে থাকা আন্দোলনের নতুন ট্রেন্ড এটি। কোনও একজন নয়, প্রতিবাদের এই নয়া ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন ইরানের অনেকেই।

নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি সমাজ মাধ্যমে লিখেছিলেন,”ইরানের লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাধীনতা চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরান যোগাযোগের সমস্ত সূত্র বিচ্ছিন্ন করেছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী, ল্যান্ডলাইনের সংযোগও বিছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। হয়তো স্যাটেলাইট সিগন্যাল রুখতে জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে।”

–

–

–

–


