লোকসভা নির্বাচনের আগে যে শরিক দলের হাত ধরে ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা করেছিল বাংলার সিপিআইএম, সেই শরিক দলই বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএমের (CPIM) উল্টো সুরে। ভোটের আগে বিরোধী দলগুলির উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে ইডি (ED), সিবিআই প্রভৃতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োগ করে। যা নিয়ে বরাবর সরব বিরোধী দলগুলি। কিন্তু আইপ্যাক দফতরে (IPAC office) ইডি হামলার পরে যখন বাংলার শাসকদল তার প্রতিবাদ করেছে, তখন তৃণমূল নেত্রী (TMC Supremo) কেন দলের ফাইল ইডি আধিকারিকদের (ED officers) হাত থেকে ফাইল ছিনিয়ে নিলেন, তার সমালোচনায় রাজনীতিতে ব্যস্ত সিপিআইএম নেতারা। তখনই সিপিআইএম লিবারেশনের (CPIML) পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়, এভাবে ফ্যাসিবাদী আচরণ করে বাংলার ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Selim) প্রশ্ন তুলেছিলেন ইডি আধিকারিকরা কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আটকাননি। যে দলের হয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাজ করছিল আইপ্যাক, সেই সংস্থার কর্ণধার ও দফতরে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে দলের কাগজপত্র তুলে নিয়ে যাচ্ছিল তারা। এই পরিস্থিতিতে দলের কাগজ রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফাইলগুলি নিয়েছিলেন, তার প্রতিবাদ করেছে বঙ্গ সিপিআইএম।

তবে সেই পথে একেবারেই যায়নি সিপিআইএম লিবারেশন। তাঁদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ছয় বছর আগে নথিভুক্ত মামলার তদন্তের অজুহাতে ঠিক নির্বাচনের আগে আইপ্যাক অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অতর্কিত হানা যে সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট। ইডি শুধুমাত্র অবিজেপি শাসিত রাজ্যেই এ ধরণের অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সংবিধান ভিত্তিক আইনের শাসনে ইডি’র নামে কেন্দ্রের মোদী সরকারের এই হানাদারি ভূমিকাকে কখনই মেনে নেওয়া যায় না। সামনেই নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে বাংলার মানুষ তাঁদের মতামত দেবেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে ইডির (ED) মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক আক্রমণের আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি।
ঠিক যেভাবে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে নির্বাচনের ঠিক আগে ইডি-র প্রয়োগ করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, তাতে সমর্থন জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি থেকে দেশের একাধিক বিরোধী দল। সেখানে বাংলায় ৩৪ বছর রাজত্ব চালানো সিপিআইএম বিজেপির সেই কার্যকলাপের বিরোধিতা করে রাজ্যের শাসকদলের পাশে দাঁড়ানোর বদলে বিজেপিকেই কার্যত সমর্থন করছে।

আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন ইডি-র: সোমেই শুনানির আবেদন

তবে নির্বাচনের আগে সিপিআইএমএল-এর (CPIML) তরফে যেভাবে বিবৃতি জারি করে রাজ্য সিপিআইএম-এর বিরোধিতা করা হল, তাতে বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই শরিকদল কীভাবে একসঙ্গে লড়াই করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এরপরেও কী রাজ্যে শূন্য থেকে ওঠার জন্য নীতিগত বিরোধিতা করা সিপিআইএমএল-এর সঙ্গেই জোট বাধার জন্য হাত পাতবে।

–

–

–

–


