ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনী নতুন কিছু নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবার এসআইআর নিয়ে যেসব পথ অবলম্বন করছে এবং তাতে সাধারণ মানুষের জীবনে যা প্রভাব পড়ছে, তা নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় একেবারে সাধারণ মানুষ থেকে হয়রানির শিকার সমাজের বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরাও (celebrity)। অথচ এই প্রক্রিয়ায় যে অবৈধ নাগরিকরা সবাই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন এবং বৈধ নাগরিকরা (valid citizen) সবাই জায়গা পাবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কমিশন। কমিশনের (Election Commission) এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করে সিইও দফতরে (CEO Office) স্মারকলিপি পেশ করলেন বাংলা একতা মঞ্চের সদস্যরা।

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে একাধিক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে কমিশনে অভিযোগ জানাতে দেখা গিয়েছে। এবার বাংলায় একতা মঞ্চের পক্ষ থেকে পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indradip Dasgupta), শিল্পী পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chattopadhyay), ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়, প্রকাশক মারুফ হোসেন, সমাজকর্মী তন্ময় ঘোষ-সহ মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা সিইও দফতরে স্মারকলিপি জমা দেন। তাঁদের দাবি চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া নানাভাবে নাগরিকদের হয়রান করছে। এই সময়ে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তা নিয়ে নিজেদের প্রতিবাদ লিপিবদ্ধ রাখাও তাঁদের দায়িত্ব।

মূলত যে বিষয়গুলি তাঁরা তুলে ধরেন কমিশনের সামনে সেখানে সবার আগে রয়েছে এসআইআর-এর সময়ের বিষয়টি। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন এসআইআর প্রক্রিয়া, শেষ করতে অনেকটা সময় প্রয়োজন কেন। এটি একটি ব্যাপক বিষয়। সেই সময় দেওয়া হয়নি কমিশনের তরফে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জন্যই শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নিজের নাম রাখতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। তাঁরা সহানুভূতি জানান, যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের জন্যও। এসআইআর-এর ফলে মানুষের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হচ্ছে। যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, দাবি করেন পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।
এর আগে বিহারের এসআইআর-এর উদাহরণ তুলে ধরে প্রশ্ন তোলা হয়, সেখানেও পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা হয়ে যাবার পরেও দেখা গিয়েছে অবৈধ ভারতীয়রা সেই তালিকায় রয়েছেন। অথচ বহু বৈধ নাগরিক যে বাদ পড়েছেন তাও প্রমাণিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলায় এসআইআর হওয়ার পর যে বৈধ নাগরিকরা (valid citizen) ভোটার তালিকায় (voter list) জায়গা পাবেন এবং অবৈধরা প্রত্যেকেই বাদ যাবেন, তার নিশ্চয়তা কিভাবে কমিশন দেবে, প্রশ্ন তোলেন শিল্পী পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন : খসড়া তালিকায় ‘মৃত’! ১০ ‘ভূত’কে কোচবিহারের সভামঞ্চে আনলেন অভিষেক, মোক্ষম খোঁচা কমিশনকে

একই সঙ্গে পরমব্রতর প্রশ্ন, বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষকে বারবার কাগজ নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ভারতবর্ষ এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ যত্ন করে ৩০-৪০ বছর কাগজ রাখার পরিস্থিতিতে থাকেন না। অথচ তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে তবেই ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হচ্ছে। যেখানে, নাগরিকত্ব প্রমাণ করার ক্ষমতাই নেই নির্বাচন কমিশনের। তা সত্ত্বেও এই প্রক্রিয়ায় শুনানির নামে হয়রান হতে হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে। তা থেকে বাদ পড়ছেন না সমাজের সুপরিচিত স্বনামধন্য ব্যক্তিরাও। এই বিষয়গুলি নিয়েই প্রতিবাদ সমাধান দাবি করে স্মারকলিপি কমিশনের সিইও দফতরে জমা দেন বাংলায় একতা মঞ্চের সদস্যরা।

–

–

–

–


