শুধু মুখে হিন্দুত্বের বুলি আর রাম-নাম। আর পদে পদে সনাতনী আধ্যাত্মিক চেতনাকে চরম আঘাত। এসআইআরের নামে এবার কি না সন্ন্যাসীদেরই অপমান করে বসল বিজেপি(BJP)! বাস্তবে তারা যে সনাতনী ধর্মের রীতিনীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, তাদের অন্তরে যে সন্ন্যাসীদের প্রতি চরম অবজ্ঞা, তারই প্রমাণ মিলল বেলুড় মঠে। সন্ন্যাসীদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল শুনানির লাইনে। যাঁরা ঘরবাড়ি ত্যাগ করে সনাতনী ধর্ম রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের পরিচয় নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিল বিজেপির দলদাস এই নির্বাচন কমিশন।

এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল(TMC) জানায়, গেরুয়া বসনের মর্যাদা বোঝে না এই বিজেপি(BJP) ও তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন। গেরুয়া বসনধারী এই ত্যাগী মানুষগুলোকে অপমান করে বিজেপি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন আসলে ভারতের সনাতনী আধ্যাত্মিক চেতনাতেই চরম আঘাত হানল। ধিক্কার এই দ্বিচারিতাকে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বহু সন্ন্যাসীকে এসআইআরের (SIR) শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। কারণ হিসেবে দর্শানো হয়েছে তাঁদের পিতা-মাতার নাম, যাঁদের সঙ্গে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণের পর তাঁরা সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁরা তাঁদের গুরুদের নাম এখন পিতামাতা হিসেবে পরিচয় দেন। তাই অনেক সন্ন্যাসীও এসআইআরে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ তাঁদের কাছে এমন কোনও হলফনামা নেই, যা প্রমাণ করে জন্মের সময়কার আসল নাম এবং সন্ন্যাসী হওয়ার পর প্রাপ্ত দীক্ষার নাম একই ব্যক্তির।
এটা ঠিক যে, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা ভোট দেন না। কিন্তু পরিচয় সংকট, ভিসা পেতে অসুবিধা বা তাঁদের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলির প্রশাসনিক কাজে সমস্যা এড়ানোর ভয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে চান তাঁরা। বুধবার ৯০ জন সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে একটি বিশেষ এসআইআর শিবিরে যোগ দেন। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন সন্ন্যাসীদেরও লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। শুনানিতে তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এই শুনানিতে বয়স্ক সন্ন্যাসীরা জুনিয়র সন্ন্যাসীদের সহায়তায় হুইলচেয়ারে করে এসেছিলেন। একজন প্রবীণ সন্ন্যাসী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিষ্ঠিত সংঘের মূল নীতি মেনেই আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হই না, তাই আমরা ভোট দিই না।

–

–

–

–

–

–

