বিক্ষোভ শুরুর পর ইরান থেকে প্রথম বার ভারতীয়দের নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করল মাহান এয়ার ফ্লাইট W5-071। তারমধ্যে বেশিরভাগই পড়ুয়া। আয়াতোল্লা খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পথে নেমেছেন হাজার হাজার ইরানের (Iran) নাগরিক। বিক্ষোভ দমনে সচেষ্ট সরকারও। এদিকে আমেরিকাও (America) বারবার ইশারা-ইঙ্গিতে ইরান আক্রমণের কথা বলছে। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার রাতেই ইরান থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করে এদেশে নিয়ে আসা হয়েছে।

কর্মসূত্রে ইরানে (Iran) যাওয়া এক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ফিরে জানান, তাঁর সংক্ষিপ্ত সফরে মূল সমস্যা ছিল নেটওয়ার্ক বিভ্রাট। আর এক ভারতীয় বলেন, “তেহরানে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তখন আগুন, বিক্ষোভ ছিল, পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। তবে সরকারের সমর্থকদের সংখ্যাও আন্দোলনকারীদের তুলনায় বেশি ছিল।”

ইরান ফেরত এক ডাক্তারি পড়ুয়া তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বলেন, ইরানে চলা বিক্ষোভের কথা শুনলেও তিনি নিজে কিছুই দেখেননি, কারণ সেদেশে ইন্টারনেট (Internet) বন্ধ। আরও এক ভারতীয় জানিয়েছেন, “আমরা যখন বাইরে যেতাম, বিক্ষোভকারীরা গাড়ির সামনে চলে আসত। আমরা আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা চিন্তিত ছিলাম। আমরা দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারিনি।”
আরও খবর: আক্রান্ত আরও এক বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক! ফের উত্তপ্ত বেলডাঙা, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি, আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন মানুষ। ধীরে ধীরে বিক্ষোভ ক্রমশ সরকার বিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। সরকারি সম্পত্তি, ভবনে আগুনে ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। এমনকী বিক্ষোভ দমনে ইরানি পুলিশ গুলি করে বলেও অভিযোগ। এই আবহে ইরানে থাকা ভারতীয়দের অবিলম্বে সেই দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে অ্যাডভাইজারি জারি করে বিদেশ মন্ত্রক। ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় রয়েছে। সেদেশে সরকারি দমন-পীড়নে ক্রমশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি।

–

–

–

–

–

–


