Saturday, March 21, 2026

বলছে ঝুট, করছে লুট: সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যার জমিদারিতে বিস্ফোরক কুণাল

Date:

Share post:

বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের প্রাপ্য দিতে কোনওদিন শোনা যায়নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। গোল গোল প্রত্যাশা তৈরি করে কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোটের বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালায় বিজেপির নেতারা। তবে সিঙ্গুরের (Singur) মাটিতে দাঁড়িয়ে যে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) বাংলার মানুষকে দেওয়ার কিছুই নেই, তা যেন তিনি নিজেও জানতেন। তাই সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। আর সেখানেই যে সব মিথ্যে কথা বলে ফের একবার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালালেন মোদি, তাকে পাল্টা ধুইয়ে দিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।

আদতে মোদির মুখ থেকে কোনও বার্তা কেন পেলেন না তা স্পষ্ট করে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, সিঙ্গুরে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দিয়ে গেলেন। একটি কথাই বলা যায় – মিথ্যার জমিদার। ওদের ভাষণ – বলছে ঝুট, করছে লুট। সিঙ্গুর (Singur) নিয়ে একটি শব্দ নেই। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) যে আন্দোলন সেটা শিল্পের বিরুদ্ধে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেননি একটাই কারণে কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে আন্দোলন সেটা শিল্পের বিরুদ্ধে ছিল না। বিজেপির একটা অংশ, সিপিআইএম কংগ্রেসের একটা অংশ খুব লাফালাফি করল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলতে পারলেন না, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন ছিল কৃষিজমির রক্ষার অধিকার। কৃষক, কৃষিজীবী, খেতমজুরের বাঁচার লড়াই ছিল। শিল্প একশোবার হবে। শিল্পের জন্য জমিতে হবে। কিন্তু কৃষিজমি দখল করে জোর করে এত মানুষের সর্বনাশ হতে পারেনা।

সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন মোদি কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারলেন না, তার পিছনে যে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন, তা স্পষ্ট করে কুণাল তথ্য পেশ করেন, শুধু তাই নয়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে বিপুল কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শুরু হয়ে দিয়েছে। ফ্লিপকার্ট, অ্য়ামাজন বিরাট ওয়্যার হাউস হচ্ছে। বিপুল কর্মসংস্থান, এলাকার মানুষ সুবিধা পাবেন। আনুসঙ্গিক আরও ব্যবস্থা হবে।

সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ সিঙ্গুরে এক নতুন মিথ্যাচারের নজির তৈরি করেছেন। স্পষ্টভাবে তা তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দুর্গোৎসব (Durga Puja) ইউনেস্কো স্বীকৃতি (UNESCO Heritage) না কি ওনাদের জন্য। একি পাগল না কি? বলছেন আগে ইউপিএ সরকার যখন ছিল তখন কেন স্বীকৃতি পায়নি। যখন ইউপিএ সরকার ছিল তখন বাংলায় তো সিপিআইএম সরকার ছিল। ওরা পুজো অর্চনার ত্রিসীমানায় যেত না। উৎসব, তার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এসে করেছে। ইউনেস্কো (UNESCO) সরকারের স্বীকৃতিও – সেটাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, বাংলার সরকার সবরকম নথিপত্র তৈরি করে – এর পূর্ণ কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুধু দুর্গোৎসব নয়। অন্যান্য বিভিন্ন উৎসবকে উৎসবের অর্থনীতি দিয়ে সব ধর্মের মানুষের উন্নয়ন – এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুন : এভাবে অভ্যর্থনা! মোদির মঞ্চে বাজল সেবাশ্রয়ের গান!

যে বাংলায় দাঁড়িয়ে মাত্র তিনটি ট্রেনের ঘোষণা রবিবার নরেন্দ্র মোদি করেছেন, তার পাল্টা কুণাল ঘোষ তথ্য পেশ করেন, আজ একের পর এক মিথ্যা কথা বলে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। কটা রেল করেছেন? তিনটে চারটে? বাংলায় রেল বিপ্লব করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পাহাড় থেকে সাগর – কার্যত প্রত্যেকটি জেলা নতুন ট্রেন, আরও যোগাযোগ, নতুন রুট, নতুন লাইন – একলাখি বালুরঘাট, দিঘা-তমলুক এবং অজস্র লোকাল ট্রেন বাড়ানো, ভারতের অন্যান্য জায়গাগুলির সঙ্গে আরও ট্রেন বাড়িয়ে দেওয়া। দুরন্ত, শিয়ালদহ রাজধানী থেকে আজমের শরিফ, মুম্বই, চেন্নাই বেঙ্গালুরু – ভারতের অন্যান্য জায়গাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো – বাংলার রেল বিপ্লব করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আর প্রধানমন্ত্রী আজ মিথ্যার জমিদারি করেছেন। বাংলার মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এদের গণতান্ত্রিকভাবে মুখের উপর জবাব দেবেন।

Related articles

অভিমানী খুদেকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করে চমকে দিলেন বিজয়-রশ্মিকা

বিয়ের অতিথি তালিকায় নিজের নাম না থাকায় অভিমান প্রকাশ করেছিল এক খুদে ভক্ত। সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে (Social...

ঈদে সৌজন্য শীর্ষাণ্য-মীনাক্ষির: সিপিআইএমের পরিযায়ী প্রার্থীকে কটাক্ষ কল্যাণের

উৎসবের মরশুমে সব ধর্ম-বর্ণ-দল-মতের মিলনই বাংলাকে অন্য সব জায়গার থেকে আলাদা করে রেখেছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ...

“স্ত্রী মানে গৃহপরিচারিকা নন”, দাম্পত্যের সংজ্ঞা বদলেছে: স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের

জেন জি-র যুগে দাঁড়িয়েও যাঁরা ভাবেন সংসার সামলানো আর রান্নাবান্না শুধুমাত্র স্ত্রীর একার দায়, তাঁদের সপাটে জবাব দিল...

কোথায় রক্ষণাবেক্ষণ: ডবল ইঞ্জিন বিহারে ভেঙে পড়ার মুখে বিক্রমশিলা সেতু

বিজেপি (BJP) জোট রাজ্য বিহারে (Bihar) গঙ্গার উপর নির্মিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিক্রমশিলা সেতুতে (Vikramshila Bridge) ধরা পড়েছে গুরুতর...