সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভাকে কার্যত ‘দিশাহীন’ এবং ‘জুমলা’ বলে দাগিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্ব সিঙ্গুরবাসীকে শিল্প সম্ভাবনার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তার লেশমাত্র না থাকায় সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। রবিবার সিঙ্গুরের সভার পর মন্ত্রী বেচারাম মান্না থেকে শুরু করে স্নেহাশিস চক্রবর্তী— প্রত্যেকেই প্রধানমন্ত্রীর ‘দাম্ভিকতা’ এবং বাংলার প্রতি তাঁর উদাসীনতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

এদিন মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, বিজেপি মিথ্যে কথা বলার জন্য সিঙ্গুরকে আদর্শ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, বিজেপির যে সব ‘শিক্ষানবিশ’ নেতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমতি না নিয়েই সিঙ্গুরে শিল্পের গালভরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, মোদিজি নিজের ভাষণে শিল্প প্রসঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে তাঁদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। মন্ত্রী বেচারাম মান্নার দাবি, সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে কারখানা করতে হলে জমি কিনে করতে হবে, আর সেই কঠিন সত্য প্রধানমন্ত্রী জানেন বলেই এই বিষয়ে নীরব থেকেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৃষকদের সম্মতি না নিয়েই জোর করে তাঁদের জমিতে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, যা বাম আমলের জবরদস্তির কথা মনে করিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী সিঙ্গুর আন্দোলনের সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল জমি অধিগ্রহণ বেআইনি ছিল। সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলেই দেশে জমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধিত হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, সিঙ্গুর থেকে যে ন্যানো কারখানা গুজরাতে গিয়েছিল, সেখানে কেন উৎপাদন থমকে গেল, তার জবাব কেন দিলেন না প্রধানমন্ত্রী? পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা এবং স্বাস্থ্য মিশনের টাকা আটকে রাখা নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে গুরুত্ব না দিয়ে মোদি কেবল রেলের উন্নয়নের কথা বলে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলায় যে কাজ করেছেন, মোদী তার এক শতাংশও করতে পারেননি। তৃণমূল নেতৃত্বের সাফ কথা, যতবারই মোদি বাংলায় আসুন না কেন, সিঙ্গুরের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের স্বপ্ন সফল হবে না।
আরও পড়ুন- সোমে বারাসাতে ‘রণ সংকল্প সভা’, স্বজনহারাদের কথা শুনবেন অভিষেক

_

_
_

_
_

_
–



