ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত জটিলতা কমানো ও সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল রাজ্যের বিডিও-দের সংগঠন। মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ও আইনি সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

সংগঠনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন বহু যুগ্ম বিডিওকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। শুনানি পর্বে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে তাঁরা একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এআই–ভিত্তিক চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি সহায়ক তথ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হলেও তা কোনওভাবেই আইনি অনুসন্ধানের বিকল্প হতে পারে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে বহু জায়গায় শুনানি কেন্দ্রগুলিতে জমায়েত, ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলেও অভিযোগ। কয়েকটি ক্ষেত্রে বিডিও অফিসে ভাঙচুর কিংবা আধিকারিকদের উপর আক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত সংগঠনের।

এই প্রেক্ষিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিষ্পত্তির জন্য একক ও আইনসঙ্গত নির্দেশিকা জারি করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর (এসওপি), মডেল আদেশনামা এবং নথি যাচাইয়ের সুস্পষ্ট তালিকা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি এবং সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করা ইআরও ও এইআরওদের জন্য যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও স্মারকলিপিতে উঠে এসেছে।

সংগঠনের বক্তব্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল।

আরও পড়ুন – ‘ড্রাগনের দেশে কলমযুদ্ধ’: দুমলাটে চিন-জীবনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন প্রীতিময়

_

_

_

_
_
_


