ঘরের দোরগোড়ায় যখন তুষারপাত আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার দাপট, তখন সীমানা পেরিয়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে প্রকৃতি আরও বেশি রুদ্রমূপ নিয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে প্রবল তুষারপাত এবং তুষারঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ জন। মৃত্যুমিছিলের পাশাপাশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দুই দেশের জনজীবন। শয়ে শয়ে গাড়ি বরফের তলায় চাপা পড়ে থাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

পাকিস্তান প্রশাসন সূত্রে খবর, তুষারপাতের জেরে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে একই পরিবারের ৯ জন সদস্য তুষারের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটন কেন্দ্র মুরি কার্যত এখন মৃত্যুপুরী। কয়েক হাজার পর্যটক সেখানে যাওয়ার রাস্তায় আটকে পড়েছেন। ভারী তুষারে হোটেলের বাইরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলো পুরোপুরি ঢেকে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং দ্রুত পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ আরও দেরি হলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানেও প্রকৃতির রোষ সমানভাবে আছড়ে পড়েছে। দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর মুখপাত্র মহম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আফগানিস্তানের ছয়টি প্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিন্দুকুশ পর্বতমালার মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সালাং পাস বরফে ঢেকে যাওয়ায় উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তানের সঙ্গে রাজধানী কাবুলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আফগান প্রশাসন জানিয়েছে, চারটি প্রদেশে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে চরম সমস্যা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোতে হেলিকপ্টারে করে খাবার ও ওষুধ পাঠানোর চেষ্টা চলছে। দুই দেশেই আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে প্রকৃতির এই তাণ্ডব নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন – আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে সাহায্য রাজ্যের, চলছে পকেট ফায়ার নিয়ন্ত্রণের কাজ

_

_

_

_

_
_


