বাংলাপ্রেমী বলে নিজেকে প্রমাণ করার যে চেষ্টা বঙ্গ সফরের প্রথম দিন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন, সেই মুখোশ খুলে গেল দ্বিতীয় দিনেই। মঞ্চ থেকে বাংলা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকা নবীন সভাপতি বলে ফেললেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) নোবেল পেয়েছিলেন শান্তি-র জন্য।

মঙ্গলবারই বঙ্গ সফরে এসেছেন বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন। তাঁর শিক্ষানবিশ চেহারা তখনই স্পষ্ট হয়েছিল যখন একের পর এক চিরকুট দেখে বাঙালি মনীষী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতি ব্যক্তিদের নাম করেছিলেন দুর্গাপুরের কমল মেলা থেকে। তবে বাংলা সম্পর্কে যে ন্যূনতম হোমওয়ার্ক করেননি তিনি, স্পষ্ট হয়ে গেল বুধবার।

বিজেপি সভাপতির মুখে শুধুই বাংলা শাসকদল তৃণমূলের বদনাম। অথচ যে কেন্দ্রের সরকারের বঞ্চনার কারণে বাংলার মানুষ আবাসের ঘর থেকে স্বাস্থ্যে বঞ্চিত, সেই কেন্দ্রের সরকারের থেকে দাবি আদায়ের কোনও কথা তাঁর মুখে শোনা গেল না।

আসলে আরএসএস ভাবনায় দীক্ষিত বিজেপি সভাপতি বাংলাকে ধর্মীয় উসকানি দিতেই ব্যস্ত থাকলেন। তাই স্বামী বিবেকানন্দের নাম বললেও তিনি বাংলা তথা ভারতের জন্য কী করেছিলেন তা বলতে পারলেন না তিনি। শেষে বাংলাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুণ্যভূমি বর্ণনা করতে গিয়ে করে ফেললেন গণ্ডগোল। বলে ফেললেন, কবিগুরু শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিলে দেখিয়েছিলেন। সেই জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। আজ সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করছি।

যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নীতি আদর্শ নিয়ে বাংলার মানুষ চলেন বিজেপি আদতে কতটা তার বিরোধী বিজেপি সভাপতির অজ্ঞতায় সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল। আদতে বাংলায় ক্ষমতা দখলে মরিয়া বিজেপিকে যে বাংলা সংস্কৃতিকে ধার করতে হবে তাও প্রমাণ করলেন নীতীন নবীন। তিনি তাঁর বক্তব্য শেষও করলেন তৃণমূলের থেকে ধার করা স্লোগান ‘জয় বাংলা’ দিয়েই।

–

–

–

–

–


