ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে নয়া ইস্যু। আর সেই নিয়োগ ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় খোদ পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনার নাম দেখে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনিক মহলের। প্রশ্ন উঠছে, যে রাজ্যে ভোট, সেই রাজ্যেরই প্রধান প্রশাসনিক স্তম্ভকে কীভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে ব্যবহার করতে চায় দিল্লি?

কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় হাওড়া ও আসানসোলের পুলিশ কমিশনারদের নামও রয়েছে। সাধারণত কোনও আধিকারিককে নিজের রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা হয় না, তাঁকে অন্য রাজ্যে পাঠানোই দস্তুর। ফলে স্বরাষ্ট্রসচিব জে পি মীনাকে শেষ পর্যন্ত কোন রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তালিকায় নাম থাকা আধিকারিকদের জন্য কড়া নির্দেশিকাও জারি করেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে দিল্লির ব্রিফিং বৈঠকে সমস্ত আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। যদি কেউ বিনা অনুমতিতে গরহাজির থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রাপ্তি স্বীকারের নথিও কমিশনকে পাঠাতে হবে।

প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন আধিকারিককে নির্বাচনের কাজে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিলে রাজ্যের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে, ভোট প্রক্রিয়া অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে কমিশনের এই সক্রিয়তা রাজ্যের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, নবান্নের চিঠির পর কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে কোনও বদল আনে কি না।

আরও পড়ুন – মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনায় আপ্লুত দেব, মমতার ভূয়সী প্রশংসা

_

_

_

_

_
_


