Site Logo

‘নির্ভর’ করা মহিলা পাইলটের হাতেই মৃত্যু! অজিত পাওয়ারের সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন তিন বিমানকর্মী

EBBS Desk·
‘নির্ভর’ করা মহিলা পাইলটের হাতেই মৃত্যু! অজিত পাওয়ারের সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন তিন বিমানকর্মী

চারিদিকে ছড়িয়ে পোড়া বিমানের অংশ। তারই মধ্যে কোনওটি দেহাবশেষ। কোনওটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কাগজ। তারই মধ্যে ডিজিসিএ-র (DGCA) তদন্তকারী সংস্থা খুঁজে চলেছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স। সেটি পাওয়া গেলেই উত্তর মিলবে শেষ মুহূর্তে কী হয়েছিল – যা বিমানের দুই পাইলট (pilot) ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট (flight attendant) ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না – অথচ যাঁরা আর নেই। যে সেভ ল্যান্ডিংয়ের ভরসায় বারামাতি যাচ্ছিলেন এনসিপি (NCP) প্রধান অজিত পাওয়ার, সেই ল্যান্ডিং-ই হয়ে গেল অভিশপ্ত।

Sponsored

Sranchi In Article

সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে বারামতির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি। প্রায় ৩৫ মিনিট পর গন্তব্যে পৌঁছে অবতরণের চেষ্টা করে বিমানটি। তবে প্রথমবার রানওয়েতে নামতে ব্যর্থ হয়। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল এটিসি-কে শেষবারের মতো পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না। দ্বিতীয়বার অবতরণের সময়ই এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

অজিত পাওয়ার নিজের বিশ্বাস করতেন মহিলা পাইলটদের উপর। বুধবার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের পাইলট ছিলেন সম্ভাবি পাঠক (Shambhavi Pathak)। ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট ছিলেন পিঙ্কি মালি (Pinky Mali)। মহিলা পাইলটদের উপর যে অজিত নির্ভর করতেন তার প্রমাণ তিনি নিজেই দিয়েছেন পুরোনো একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) সেখানে বলেছিলেন, যদি দেখেন কোনও বিমান খুব নরমভাবে মাটি ছুঁচ্ছে তাহলে বুঝবেন সেখানে একজন মহিলা পাইলট (female pilot) চালকের আসনে রয়েছেন।

বুধবারের অভিশপ্ত বিমান দুর্ঘটনার পরে হঠাৎই অজিতের সেই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায়। মহিলা পাইলটদের উপর তাঁর নির্ভরশীলতার কারণও ছিল। এই বিমানের পাইলটের অভিজ্ঞতাও তারই প্রমাণ। তিনি এয়ার ফোর্স বাল ভারতী স্কুল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল পাইলট একাডেমি থেকে বাণিজ্যিক পাইলট ও ফ্লাইট ক্রু হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়াও মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোনটিক্স, এভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। ২০২২ সাল থেকে এই সংস্থাতেই তিনি পাইলট হিসাবে নিযুক্ত।

অভিশপ্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট পিঙ্কি মালির দেহাবশেষ। মুম্বইয়ের ওরলি-তে তাঁর বাবা শিবকুমার মালির এখন একটাই প্রার্থনা, মেয়ের দেহাবশেষ তাঁকে তুলে দেওয়া হোক। যাতে তিনি অন্তেষ্টি করতে পারেন। অজিত পাওয়ারের সঙ্গে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্ভাবির মতো পিঙ্কিও উড়ানের দায়িত্বে ছিলেন। তার কারণও হয়তো অজিত পাওয়ারের সেই বিশ্বাস – মহিলা পাইলটের হাতেই নরম ল্যান্ডিং করা সম্ভব। তবে দুর্ভাগ্য যে সেখানেও অপেক্ষা করতে পারে, তা তখন আর কে ভেবেছিল।

আরও পড়ুন : পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগে প্রয়াত NCP প্রধান: মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে অজিত-মৃত্যুতে ঘুরবে মোড়!

তবে লিয়ারজেট ৪৫-এ এদিন আরও এক পাইলট ছিলেন। তিনি সুমিত কাপুর। সুমিত একজন অভিজ্ঞ পাইটল হিসাবেই পরিচিত যাঁর ঝুলিতে ১৬ হাজারের বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বিমান দুর্ঘটনায় কাঁটাছেঁড়ায় ফের একবার পাইলটের ভুল নিয়ে শুরু হয়েছে গবেষণা। ঠিক যেভাবে বিমান, তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির বিষয়গুলি ঢাকতে আমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটদের কাঁধে বন্দুক রাখার খেলা চলেছিল, আবার সেরকমই হওয়ার কিছুটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবারও। যদিও ইতিমধ্যেই পিঙ্কির বাবা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।

-

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →