ইউজিসি (UGC)-র নতুন নিয়ম সমাজে বৈষম্য ও বিভাজন তৈরি করতে পারে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করে বিতর্কিত নির্দেশিকায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার একাধিক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, ইউজিসি প্রমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬ উচ্চশিক্ষার প্রগতিশীল কাঠামোর ওপর আঘাত আনছে কি না খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা কি ধীরে ধীরে একটি রক্ষণশীল সমাজের দিকে এগোচ্ছি?” আদালত স্পষ্ট করে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ২০২৬-এর নতুন বিধি কার্যকর হবে না, বহাল থাকবে ২০১২ সালের পুরনো নিয়ম। কেন্দ্র ও ইউজিসি-কে নোটিশ পাঠিয়ে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিতে প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’, ‘ইকুইটি কমিটি’ ও ‘ইকুইটি হেল্পলাইন’ চালুর কথা বলা হয়েছে। নিয়মভঙ্গ হলে কড়া শাস্তি, এমনকি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে। এই নির্দেশিকা নিয়ে জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি তোলেন। তাঁদের দাবি, বিধি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসে বিভাজন বাড়বে, মিথ্যা অভিযোগের আশঙ্কা তৈরি হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সীমিত থাকবে।
এই প্রেক্ষিতেই ইউজিসি-র নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তিনটি মামলা দায়ের হয়। শুনানিতে মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। আদালত জানায়, বিধির ভাষা ‘অস্পষ্ট’ এবং এর ‘অপব্যবহার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিয়মগুলি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনে নতুন খসড়া তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

–

–

–

–

–

–

–



