দুর্গাপুরের বিজেপির ‘কমল মেলা’য় একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে চরম অপমানের অভিযোগ তুলল বাংলার জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’ (Panchforon Band)। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেও মঞ্চে ওঠার সুযোগ পাননি শিল্পীরা। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান বাতিল করে ফিরে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। ঘটনার পরে ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) নিজেদের অভিজ্ঞতার জানিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ব্যান্ডের সদস্যরা।

বুধবার সন্ধেয় দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার মঞ্চে ‘পাঁচফোড়ন’-এর পারফর্ম করার কথা ছিল। অভিযোগ, সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছনোর পরেও শিল্পীদের গ্রিনরুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকী, জল বা চায়ের ব্যবস্থাও ছিল না। দীর্ঘ সময় গাড়িতেই বসে থাকতে হয় তাঁদের। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর অনুষ্ঠান না করেই ফিরে যান ব্যান্ডের সদস্যরা। আরও পড়ুন: সামসেরগঞ্জে শ্যুটআউট! খুন হলেন যুব হোটেল মালিক

এরপর ব্যান্ডের প্রধান গায়িকা অমৃতা মুখোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে জানান, উদ্যোক্তাদের তরফে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব এলেও কোনও অগ্রিম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। বুধবার সকালেই হঠাৎ করে সন্ধের অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়। তাঁরা রাজি হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে গিয়ে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করেননি।

অমৃতার অভিযোগ, উদ্যোক্তাদের একাংশ জানিয়েছিলেন— সেদিন কোনও ব্যান্ডের অনুষ্ঠান রয়েছে, সেটাই নাকি তাঁরা জানতেন না। তিনি আরও বলেন, এটি যে রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান, আগে জানলে তাঁরা কখনও অংশ নিতেন না। তাঁর কথায়, এই ঘটনায় তাঁরা ভীষণভাবে অপমানিত ও অসম্মানিত বোধ করেছেন।

ব্যান্ডের আর এক সদস্য বিজেপির নাম না করেই তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে তাঁরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য শিল্পীদেরও এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আবেদন জানান। তাঁর অভিযোগ, বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি এই রাজনৈতিক দলের কোনও সম্মান নেই।

এদিকে ঘটনার পর দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন মেলার সঙ্গে যুক্ত বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি মনীষা শিকদার জানান, তিনি শুধু ব্যান্ডের সঙ্গে মেলা কমিটির যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। এর পর কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করে ব্যক্তিগতভাবে শিল্পীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

মেলার আহ্বায়ক কুন্দন সাউয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত’ বলে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই দাবি করেন, গোটা ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুর্গাপুরবাসীদের বক্তব্য, ডেকে এনে শিল্পীদের অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

–

–

–


