কলকাতার হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একদিনে কত বিতর্ক টেনে এনেছেন শূন্যে বিলীন হওয়া সিপিআইএম-এর (CPIM) জন্য, ফের একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। একদিকে সিপিআইএম-এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হল কংগ্রেসের তরফে। অন্যদিকে অতীতে যেভাবে কংগ্রেসকে অপমান করে জোট (alliance) প্রক্রিয়া একাই ভেস্তে দিয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম (Mohammed Selim), তা স্মরণ করিয়ে দিল কংগ্রেস।

সম্প্রতি জনতা উন্নয়ন পার্টির (JUP) সঙ্গে বৈঠকে করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এরপরই এই জোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। সেখানেই প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, আপনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ বলেন। অথচ ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আপনি বলে দিলেন শুভঙ্কর সরকার তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শুভঙ্কর সরকারকে তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়নি। দেখা গিয়েছে আপনাকে। বিজেপির টাকায় বিজেপির পোষিত হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) দল, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে ফেললেন।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নামে যে অপপ্রচার করার চেষ্টা করেছেন, তাতে যে রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্ব সিপিআইএম-এর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে, তা স্পষ্ট। একদিকে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট হওয়া নিয়ে সেলিমে ভবিষদ্বাণী নিয়ে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস মুখপাত্র। অন্যদিকে, হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপির হাত ধরা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস।

আরও পড়ুন : দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

কংগ্রেস মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দেন, প্রতিবার জোট প্রক্রিয়াকে ব্যহত করেছেন আপনি। ২০২১ সালে ব্রিগেডের মঞ্চ। লাখ লাখ জনতা। অধীর চৌধুরিকে থামিয়ে দিয়ে মাইকে কেড়ে নিয়ে পীরজাদাকে মাইক ধরিয়ে দিলেন। কংগ্রেসকে অপমান করলেন। তার প্রভাব পড়ল ভোটে। সিপিআইএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য তার সমালোচনা করে বলেছিলেন অধীরকে (Adhir Chowdhury) অপমানের নেতিবাচক প্রভাব ভোটের ফলাফলে পড়েছে। তাতেও শিক্ষা হল না। সেই পথ ধরে আজ শুভঙ্কর সরকারকে (Subhankar Sarkar) অপমান করলেন। জোট প্রক্রিয়াকে ব্যহত করার কোন চক্রান্ত আপনি করছেন তার উত্তর চাইবে ইতিহাস।

–

–

–

–

–

