একদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিদিনের নতুন নতুন ছক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যতবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে, সবই হয়েছে বাংলা থেকে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রতিবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস করে লড়াইয়ের পথ দেখিয়েছেন। এসআইআর-এর (SIR) এই পর্বেও তার ব্যতিক্রম হল না। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের (Bhawanipore) বিএলএ-দের (BLA-2) বৈঠকের মধ্যে দিয়েই লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করে দিলেন তিনি।

বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ চক্রান্তের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই চাই। মনে রাখবেন এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুরাচারের বিরুদ্ধে এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে নিজের ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলএ-২’দের (BLA-2) বৈঠকে এভাবেই সকলকে লড়াইয়ের মন্ত্র দিয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একগুচ্ছ বিষয়ে এদিন তিনি সতর্ক থাকতে বলেছেন সকলকে। বৈঠকে উপস্থিত দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ সব কাউন্সিলরদের আরও সতর্ক থাকতে বলেন।

নেত্রীর উপদেশ, মনে রাখবেন মাইক্রো অবজারভার বলে কিছু হয় না। এই ধরনের কোনও পোস্ট নেই। এরা জোর করে করছে এসব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) অর্ডার স্মরণ করাবেন। আর অবশ্যই নথি জমা দিলে তার রসিদ (receipt) যেন দেয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। এক ইঞ্চিও লড়াইয়ের জমি ছাড়া যাবে না। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই নেত্রী বলেন, আমি অনুমতি পেলে সাধারণ মানুষ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে বলব। আপনারা দিন-রাত অনেক পরিশ্রম করছেন। আপনাদের আগামী কয়েকদিন আরও লড়াই দিতে হবে। আরও বেশি করে পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিন মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে যান। আরও বেশি করে স্ক্রুটিনি (scrutiny) করুন।

আরও পড়ুন : কমিশনের জন্য পেশায় টান: হাই কোর্টের দ্বারস্থ LIC কর্মীরা, ব্যাখ্যা তলব আদালতের

ভবানীপুর কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের উল্লেখ করে সেগুলির দিকে বাড়তি নজর দিতে বলেছেন নেত্রী। যেমন ৬৩ ও ৭২ এই দুই ওয়ার্ডে আরও বেশি করে জোর দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে শুনানিতে যাঁদের ডাক হয়েছে আর চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ যাবে, তাঁদের তালিকা তাঁর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী।

বৈঠকে তিনি বলেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছা করে বহু নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, প্রতিদিনের রিপোর্ট ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিষ কুমারকে দিতে হবে। তারা সেই রিপোর্ট তাঁর কাছে পাঠাবেন।

–

–

–

–

