এতটাই অন্তঃসারশূন্য বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন যে তাঁর বাজেট পড়ার সময়ই শেয়ার বাজারে ধস নামল। যদিও মোদি সরকারের জমানায় তা নতুন কিছু নয়। ২০২৫ বাজেট পেশের দিনেও একইভাবে শেয়ার বাজার পড়েছিল, যা উঠে দাঁড়াতে প্রায় ১০ মাস সময় লেগেছিল। রবিবার অপ্রত্যাশিত খোলা শেয়ার বাজারে প্রত্যাশার যে ঝলকের আশা করা হয়েছিল, তা না মিলতেই সেনসেক্স পড়ল ১.৬ শতাংশ। নিফটির ক্ষেত্রেও একইভাবে ১.৩ শতাংশের পতন দেখা গেল।

বৈদেশিক বাণিজ্য ও উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতের নিম্নগামীতার দিকে নজর রেখে বিগত দুবছর বাজেট পেশ খুব একটা সুখকর হয়নি শেয়ার বাজারের জন্য। তার আভাস পেয়েই রবিবার সকাল থেকে শেয়ার বাজারে প্রত্যেকটি বৃহৎ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভেল, গেল, হিন্দুস্তান এরোনটিক্সের মতো বৃহৎ শিল্প কোনওটি ৩ শতাংশের বেশি পতনের মুখে চলে যায়।

বাজেটে উৎপাদন শিল্পে কেন্দ্রের সরকারের উদ্যোগের কথা বললেও তাতে এতটাই অন্তঃসারশূন্যতা ছিল, যে কোনও আশার আলো দেখেনি উৎপাদন শিল্প। যার সাক্ষী শেয়ার বাজার। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড থেকে সেইল, সিমেন্ট শিল্প বা ছোট ডাবরের মতো সংস্থা নতুন করে পতনের মুখে। একই সমস্য়া দেখা যায় অটোমোবাইল ক্ষেত্রেও। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২ শতাংশের বেশি পতন দেখা যায়।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জাহাজ শিল্পে ছাড়ের ঘোষণা করলেও আদতে জাহাজ শিল্পও যে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এখনও তারও ইঙ্গিত শেয়ার বাজারে। শিপিং সংস্থাগুলো মাথা তুলে দাঁড়ানোর বদলে নতুন করে প্রায় দেড় শতাংশ পতনের দিকে চলে যায়।

আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার দিন দাম বাড়ল গ্যাসের

সেই সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রেও পতন শেয়ার বাজারে। কৃষি সামগ্রী উৎপাদনের শিল্পগুলিতে যেমন পতনের ইঙ্গিত দেখা যায়, তেমনই সার উৎপাদন শিল্পগুলিও নেতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। আদতে কৃষি নির্ভর বাজেট যে মোদি সরকার পেশ করতে ব্যর্থ তা আরও একবার প্রমাণিত।



