বিজেপির বাংলা বিরোধী চরিত্র স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬। নির্মলা সীতারমন বাজেট পেশের সময় একবারও বাংলার নামও উচ্চারণ করলেন না। বাজেট অধিবেশনের (Union Budget 2026) প্রথম পর্বে বাংলার প্রতি এই বঞ্চনার জবাব দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি স্পষ্ট দাবি করলেন, বাংলার নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) ভরাডুবি দেখেই বাংলার প্রতি এই বঞ্চনা কেন্দ্রের।

দক্ষিণ ভারতের সামুদ্রিক এলাকা থেকে উত্তরের পার্বত্য লে শহর যেখানে নির্মলা সীতারমনের বাজেটে জায়গা পেয়েছে, সেখানে বাংলার নাম মুখে আনেনি মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। বাংলার প্রতি এই মনোভাবে অভিষেকের হিসাব পেশ, যে বাজেট (Union Budget 2026) পেশ করা হল সেখানে ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য। সেই ৫১০০ সেকেন্ডের মধ্যে এক সেকেন্ডও বাংলার জন্য বরাদ্দ করা হয়নি।

বাস্তবে এই বাজেটে যে বাংলা তথা দেশের কোনও সম্প্রদায়ের জন্যই কিছু বরাদ্দ হয়নি, তা স্পষ্ট করে অভিষেকের দাবি, বাংলা ছাড়ুন – কৃষক বা যুব সম্প্রদায় – কারো জন্যই কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই। যে সরকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, স্কিল ইন্ডিয়া, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা বলে, তাঁরা যুব সম্প্রদায়ের রোজগার কীভাবে হবে, কোন পথে রোজগার হবে, তা নিয়ে কোনও দিশা নেই। কোনও উল্লেখ নেই। কৃষকদের জন্য কোনও আর্থিক নিরাপত্তা, বা উপার্জন বাড়ানোর কোনও দিশা নেই। কোনও সম্প্রদায়ের জন্য কোনও সমাধান নেই। এই বাজেট একটি দিশাহীন, ভিত্তিহীন বাজেট।

নির্বাচন মুখী বিহারের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তুলনা করা হচ্ছে বাংলার। ২০২৫ সালে বিহার নির্বাচনের আগে বিহারের জন্য একাধিক প্যাকেজ থেকে খেলাধূলা ও বিমান বন্দরে বড় ঘোষণা করেছিল মোদি সরকারের বাজেট। ২০২৬ সালে বাংলায় নির্বাচনের আগে বাংলার জন্যও কেন্দ্রের প্যাকেজের আশা করা হয়েছিল। সেখানেই সাংসদ অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, বলতেই পারেন এটা নির্বাচনমুখী বাজেট। কিন্তু এই বাজেট থেকে বাংলা কিছু প্রত্য়াশাও করেনি। কারণ এর আগেই বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ দেখিয়েছে। গ্রামীণ সড়ক যোজনায় যেখানে ৬০ শতাংশ কেন্দ্রের সরকারের দেওয়ার কথা, সেখানে ১০ পয়সাও দিয়েছে যদি দেখাতে পারে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।

আরও পড়ুন : মিথ্যে কথার ফুলঝুরি: ফ্রেট করিডরের নিয়ে মোদি সরকারকে ধুয়ে দিলেন মমতা

বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণের কারণ হিসাবে তিনি তুলে ধরেন, বাংলা আপনি হারছেন তাই বাংলার মানুষকে আপনি শিক্ষা দিতে চান। গণতন্ত্রে শিক্ষা দেয় মানুষ। কোনও রাজনীতিক শিক্ষা দেয় না। মানুষের শক্তির আগে কেউ টিকতে পারে না। কেউ যদি ভাবে আমাদের হাতে শক্তি আছে, তবে তার শিক্ষা মানুষ আগামী নির্বাচনে দেবে।

–

–

–

–


