Thursday, April 23, 2026

জন্মের পরই একরত্তিকে ফেলে যান মা, ডাচ মেয়র আজও অপেক্ষায় বাস্তবের কর্ণ-কুন্তী সাক্ষাতের

Date:

Share post:

তিনদিনের শিশুকে নাগপুরের (Nagpur) আমবাজারি রোডের মাত্রু সেবা সঙ্ঘে ফেলে রেখে গেছিলেন জন্মদাত্রী। তারপর থেকে সেই ছোট্ট শিশু জীবনের ৪১ টা বছর পার করে আজ মধ্যবয়সী এক নামজাদা ব্যক্তিত্ব। হল্যান্ডের কাছে অ্যামস্টারডাম থেকে ৩০ কিমি দূরে থাকা হিমস্টেডের প্রশাসনিক কাজ অবলীলায় সামলান তিনি। কিন্তু মনের কোনে আছো দগদগে ক্ষত। এযুগের ‘কর্ণ’ যেন খুঁজে চলেছেন সেই ‘ যিনি অনায়াসে একরত্তিকে ছেড়ে দিয়েছিলেন বিশাল এই পৃথিবীর কঠিন বাস্তবে। আজ সে হল্যান্ডের মেয়র ফাল্গুন বিনেনডিজক (Falgun Binnendijk)। নাম, যশ, প্রতিপত্তি কোনও কিছুরই অভাব নেই। কিন্তু হৃদয়ের গভীরে আজও যন্ত্রণা আর হাহাকার। একবার নিজের মাকে চোখে দেখার অঙ্গীকার করেছেন নিজের সঙ্গেই। কোনও কৈফিয়ত জানার নেই তাঁর, বরং জন্মদাত্রীকে জানানোর আছে যে ফাল্গুন বিনেনডিজক ‘ভালো’ আছেন। আরও পড়ুন: স্বাধীনতার দাবিতে রণক্ষেত্র বালোচিস্তান, সংঘর্ষে মৃত অন্তত ১২৫

ফাল্গুনের জন্ম হয় ১৯৮৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। কোনও ২১ বছরের অবিবাহিত তরুণী ওই সঙ্ঘে রেখে যান তাঁকে। জন্মসূত্রে ভারতীয় হলেও ডাচ দম্পতি দত্তক নেওয়ায় নেদারল্যান্ডসেই লেখাপড়া থেকে বড় হওয়া, প্রেম – বিয়ে – সংসার সবটাই। ফাল্গুন বিশ্বাস করেন প্রত্যেক কর্ণের অধিকার আছে কুন্তীকে খুঁজে পাওয়ার। অন্তত একবার মুখোমুখি দাঁড়াতে চাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করা কি অপরাধ? না তা নয়, তাই বারবার ভারতের মাটিতে এসে মায়ের খোঁজ করেন। অস্তিত্বের শিকড় জানা নেই তাঁর, কিন্তু ফাল্গুন বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে হতাশায় ডুবিয়ে রাখেন নি। বরং মগ্ন থেকেছেন কাজে, নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সামাজিক হিতার্থের প্রয়োজনীয়তায়। একজন দায়িত্বশীল মানুষ, একজন বাবা এবং তারপর ডাচ শহর হিমস্টেডের মেয়র হিসেবে আজ তাঁর কথা জানেন সকলেই। তিনি প্রমাণ করেছেন, জন্ম কীভাবে কোথায় কার কাছে হবে সেটা হাতে না থাকলেও, কর্ম আক্ষরিক অর্থে জীবন গঠন করতে পারে।

বছরের পর বছর ধরে খোঁজাখুঁজি, কাগজপত্র এবং সরকারী সহায়তার পর, ৪১ বছর বয়সী ফাল্গুন সম্প্রতি ভারতে ফিরে আসেন। এবং তারপর দেখা করেন সেই মমতাময়ী নার্সের সঙ্গে যিনি তাঁকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন, দিয়েছিলেন নাম। সেই আবেগঘন মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিলেন দুজনেই। কিন্তু গল্পটা এখানে শেষ হয়নি। কারণ ফাল্গুন এখনও জন্মদাত্রীর সন্ধান পান নি। খুঁজে চলেছেন আজও। মাকে যে জানাতে হবে, তাঁর ফেলে দেওয়া সন্তান আজ খুব ভালো আছে। মা যেন তাঁকে নিয়ে একটুও না ভাবেন।

Related articles

‘নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান’, প্রথম দফার ভোটের শেষে জৈন মন্দিরে সম্প্রীতির বার্তা মমতার

বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি বাদ দিলে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। আর...

সর্বকালীন রেকর্ড ভোট বাংলায়: প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, দাবি কমিশনের

নজিরবিহীন নির্বাচনের সাক্ষী থাকল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। গোটা রাজ্যে ১৫২ আসনে প্রায় প্রতি বুথে সকাল থেকে...

সাঁজোয়া গাড়ি থেকে এজেন্সি! বাংলার ওপর এত রাগ কেন? কেন্দ্র-কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

‘বাংলার সাথে গদ্দারি করব না, জন্মেছি বাংলায়, মরবও বাংলায়’— এই স্লোগানকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার ফের দিল্লিকে নিশানা করলেন...

অতন্দ্র প্রহরীর মতো রাত জেগে আজ বিজেপির দফারফা করেছি: অভিষেক  

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথমদফার ভোটগ্রহণ হল বৃহস্পতিবার। আর সেদিন সন্ধেয় দলীয় প্রার্থীর হয়ে মেটিয়াবুরুজের কারবার পিঙ্ক স্কোয়ার থেকে...