কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে একটি পেশাদার বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু করা হয়েছে। মূলত স্কুল এবং অফিসের ব্যস্ত সময়ে কেন রাস্তাঘাট স্থবির হয়ে পড়ছে, তা খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ করাই এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য।

রাজ্য সরকার কেবল ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করতে চাইছে। সমীক্ষক সংস্থাটি মূলত কোন কোন রাস্তায় সবচেয়ে বেশি যানজট হচ্ছে এবং কোন সময়ে জট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, রাস্তার নকশায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে কি না বা মোড়গুলোতে কোনো সমস্যা আছে কি না, রাস্তা চওড়া করার সম্ভাবনা এবং যান চলাচলের জন্য নতুন কোনো বিকল্প রাস্তা তৈরি করা যায় কি না, সে বিষয়ে সুপারিশ- এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে।

নবান্নের প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, গত কয়েক বছরে দক্ষিণবঙ্গের জেলা শহরগুলিতে জনবসতির ঘনত্ব আকাশছোঁয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে:
১. পরিবহণ ব্যবস্থার পরিবর্তন: বাস ও ট্যাক্সির পাশাপাশি অ্যাপ-বাইক, ফুড ডেলিভারি পরিষেবা এবং অনিয়ন্ত্রিত অটো ও টোটোর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে।
২. বাজার থেকে মল: ঘিঞ্জি বাজার এলাকাগুলোর চরিত্র বদলে সেখানে বড় বড় শপিং মল এবং বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় গাড়ির চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে।
৩. দীর্ঘ জট: পুলিশি পর্যবেক্ষণ বলছে, সকাল ৮টা থেকেই যানজট শুরু হয়ে যায়, যা বেলা গড়িয়েও মেটে না। ফের বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একই পরিস্থিতি বজায় থাকে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হাওড়া শহরের যানজট এখন চরম আকার নিয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ও বারুইপুর, এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও ব্যারাকপুরের মতো জনবহুল শহরগুলিতে যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম। অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করেও যখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, তখনই এই উচ্চপর্যায়ের সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় নবান্ন। প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য কেবল বর্তমানের ভোগান্তি কমানো নয়, বরং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে একটি স্থায়ী পরিবহণ রূপরেখা তৈরি করা।” সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই রাজ্য সরকার পরবর্তী বড় পদক্ষেপ করবে।

আরও পড়ুন- শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

_

_

_

_

_
_


